আমাজন এফিলিয়েট মার্কেটিং কিভাবে শুরু করবো?

আমাজন এফিলিয়েট মার্কেটিং কিভাবে শুরু করবো? -আপনি যদি এই বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চান। তাহলে আজকের আর্টিকেল টি আপনার জন্য অনেক হেল্পফুল হবে।

কারণ, নতুনদের জন্য আমাজন এফিলিয়েট করার জন্য কি কি করতে হবে। সেই বিষয় গুলো আজকে ধাপে ধাপে দেখিয়ে দিবো।

 আমাজন এফিলিয়েট মার্কেটিং কি?

সহজ কথায় বলতে গেলে, আমাজন এফিলিয়েট মার্কেটিং হলো এমন একটি প্রক্রিয়া। যেখানে আপনি আমাজনের এফিলিয়েট প্রোগ্রামে নতুন ইউজার হিসেবে নিবন্ধন করবেন। তারপর আমাজন ওয়েব সাইট থেকে আপনাকে নির্দিষ্ট পণ্যের ইউনিক এফিলিয়েট লিঙ্ক দেওয়া হবে।

আর আপনাকে সেই এফিলিয়েট লিংক আপনার নিজস্ব ওয়েবসাইট, ব্লগ, সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এর মধ্যে প্রচার করতে হবে।

তো এই এফিলিয়েট লিঙ্ক ব্যবহার করে যখন একজন ব্যবহারকারী আপনার শেয়ার করা লিঙ্ক থেকে আমাজনের প্রোডাক্টে প্রবেশ করবে। এবং সে ব্যবহারকারী যখন উক্ত পণ্য ক্রয় করবে। তখন আপনি উক্ত প্রোডাক্ট সেল করার বিনিময়ে নির্দিষ্ট পরিমান কমিশন অর্জন করতে পারেন।

মূলত একেই বলা হয়, আমাজন এফিলিয়েট মার্কেটিং।

আমাজন এফিলিয়েট মার্কেটিং কিভাবে শুরু করবো?

আমাজন এফিলিয়েট মার্কেটিং এর উদাহরন

যদিওবা উপরের আলোচনা তে আমি আপনাকে আমাজন এফিলিয়েট মার্কেটিং কি সে নিয়ে বিস্তারিত বলেছি। তবুও আপনি যেন আমাজন এফিলিয়েট সম্পর্কে আরো পরিস্কার ধারনা নিতে পারেন। সে কারণে এবার আমি উক্ত বিষয়টি উদাহরন সহকারে বুঝিয়ে দিবো।

See also  দুবাই সুপার মার্কেট ভিসা আপডেট

যেমন ধরুন, আপনার একটি ওয়েবসাইট আছে এবং আপনি নিজেই সেই ওয়েবসাইট পরিচালনা করেন। আর উক্ত ওয়েবসাইটে আপনি মানুষের প্রয়োজনীয় প্রোডাক্ট গুলো সম্পর্কে বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

তো আপনি যদি আপনার ওয়েবসাইটের পোষ্টে আমাজনের প্রোডাক্টের বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করেন। তখন যদি কোনো ব্যবহারকারী আপনার শেয়ার করা বিজ্ঞাপনে ক্লিক করে। আর সেই পণ্য আমাজন থেকে ক্রয় করে।

তাহলে সেই প্রোডাক্ট সেল করার জন্য আপনাকে আমাজন থেকে কিছু পরিমান অর্থ কমিশন হিসেবে প্রদান করা হবে।

এর কারণ হলো, আমাজন এফিলিয়েট মার্কেটিং একটি পার্টনারশিপ প্রোগ্রাম। যেখানে আপনি আমাজন এর প্রোডাক্ট প্রচার করে বিক্রি করবেন। আর তার বিনিময়ে আপনি কিছু কমিশন অর্জন করতে পারবেন।

আমাজন এফিলিয়েট মার্কেটিং কিভাবে শুরু করবো?

এতক্ষনের আলোচনা থেকে আমরা আমাজন এফিলিয়েট মার্কেটিং কি সে সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করলাম। তো এবার আমরা জানবো যে, আমাজন এফিলিয়েট মার্কেটিং কিভাবে শুরু করা যাবে। আর আপনি যদি আমাজন এফিলিয়েট মার্কেটিং শুরু করতে চান। তাহলে আপনাকে নিচে উল্লেখিত ধাপ গুলো অনুসরণ করতে হবে। যেমন,

ধাপ ১: একটি অ্যামাজন এফিলিয়েট অ্যাকাউন্ট খুলুন

সবার প্রথমে আপনাকে অ্যামাজনে একটি এফিলিয়েট অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে। যদি আপনার কাছে এই অ্যাকাউন্ট না থাকে। তবে আপনি অ্যামাজনের ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন এবং “Join for Free” বা “Create an Account” এর মধ্যে ক্লিক করুন। তারপর আপনাকে বেশ কিছু ইনফরমেশন দিয়ে একটি অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে হবে।

ধাপ ২: এফিলিয়েট প্রোগ্রাম নির্বাচন করুন

যখন আপনার আমাজন অ্যাকাউন্ট তৈরি হবে। তারপর আপনি অ্যামাজন এফিলিয়েট ড্যাশবোর্ডে প্রবেশ করতে পারবেন। সেখানে আপনাকে বিভিন্ন পণ্যের জন্য এফিলিয়েট প্রোগ্রামের বিস্তারিত তথ্য দেখানো হবে।

তো এখান থেকে আপনি এফিলিলিয়ট করার জন্য যেকোনো প্রোডাক্ট সিলেক্ট করতে পারবেন। যেমন, ইলেক্ট্রনিক্স পণ্য, বই, স্পোর্টিং এর প্রোডাক্ট, কম্পিউটার সংক্রান্ত পণ্য ইত্যাদি।

See also  সরকারি ভাবে রোমানিয়া যাওয়ার নিয়ম ২০২৩

ধাপ ৩: এফিলিয়েট লিঙ্ক তৈরি করুন

যখন আপনি এফিলিয়েট করার জন্য প্রোডাক্ট চয়েস করবেন। তারপর আপনাকে একটি এফিলিয়েট লিঙ্ক তৈরি করতে হবে। তারপর আপনাকে উক্ত লিঙ্কটি ব্লগ, ওয়েবসাইট, ইমেইল, সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টিং ইত্যাদির মাধ্যমে প্রচার করতে হবে।

ধাপ ৪: প্রচার এবং প্রমোশন করুন

আর আপনি চাইলে আপনার এফিলিয়েট লিংক পেইড প্রোমোশন করতে পারবেন। অথবা আপনি চাইলে সেই এফিলিয়েট লিঙ্ক গুলো আপনার ব্লগ পোস্ট, সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, ইমেইল মার্কেটিং, ওয়েবসাইট পোস্টিং ইত্যাদির মাধ্যমেও প্রচার করতে পারেন।

তবে আপনাকে সেই এফিলিয়েট লিংক গুলো এমন ভাবে প্রচার করতে হবে। যেন, কাষ্টমাররা আপনার সেই লিংক এর মাধ্যমে প্রোডাক্ট কিনতে আগ্রহী হয়।

ধাপ ৫: লিঙ্ক পরিসংখ্যান এবং প্রফিট মনিটরিং

দেখুন, আপনার আমাজন এফিলিয়েট লিংক থেকে কি পরিমান সেল হচ্ছে। আর তার বিনিময়ে আপনি কি পরিমান প্রফিট অর্জন করতে পারছেন। এই সবকিছু আপনি আমাজন ওয়েবসাইট এর ড্যাশবোর্ড থেকে দেখতে পারবেন।

কেননা, আপনি যখন আমাজনের ওয়েবসাইটে আপনার একাউন্ট দিয়ে লগইন করবেন। তারপর আপনি সবকিছুর বিস্তারিত তথ্য জানতে পারবেন। আর আপনাকে প্রতিনিয়ত এই বিষয় গুলো মনিটরিং করতে হবে। তাহলে আপনি আমাজন এফিলিয়েট এর কাজের প্রসেস গুলো বুঝতে পারবেন।

আমাজন এফিলিয়েট হয়ে কি আয় করা যায়?

আমাজন এফিলিয়েট প্রোগ্রামের মাধ্যমে আপনি প্রতি টি প্রোডাক্ট বিক্রয় করার বিনিময়ে কমিশন পাবেন। আর আপনার আসলে কত কমিশন হবে, সেটি পণ্যের মূল্যের উপর ভিত্তি করে নির্ধারন করা হবে।

আর আমাজন এফিলিয়েট প্রোগ্রামে সাধারণত কমিশন হার, ৪% থেকে ৮% পর্যন্ত দেওয়া হয়। তবে এটা সম্পূর্ণ নির্ভর করে আমাজন এর মালিকদের উপর। কেননা, তারা ইচ্ছে করলে এই কমিশন এর পরিমান বাড়াতে পারে। আবার তারা তাদের ইচ্ছেমতো কম কমিশনও দিতে পারে।

এফিলিয়েট মার্কেটিং এ যারা কাজ করেন তাদের কি বলা হয়?

এফিলিয়েট মার্কেটিং নিয়ে যারা কাজ করেন, তাদের কে এফিলিয়েট মার্কেটার বলা হয়। এফিলিয়েট মার্কেটারদের আরো অনেক নামে ডাকা হয়। যেমন, পার্টনার, এফিলিয়েট পাবলিশার, এফিলিয়েট প্রমোটার ইত্যাদি।

See also  জার্মানিতে কোন কাজের চাহিদা বেশি?

এফিলিয়েট মার্কেটাররা অনলাইনে বিভিন্ন পন্যের  প্রচার ও বিজ্ঞাপন প্রদান করে। আর উক্ত প্রচার কাজের জন্য তারা সচারচর প্রমোশনাল কনটেন্ট তৈরি করে। যেখানে নির্দিষ্ট কোনো পণ্যের বৈশিষ্ট্য, মূল্য, সুবিধা ইত্যাদি তথ্য গুলো উল্লেখ করে।

আর সেই প্রমোশনাল কনটেন্ট গুলো নিজেদের ওয়েবসাইট, ব্লগ, সোশ্যাল মিডিয়া তে পোষ্ট করে। এবং  যখন কেউ তাদের প্রচার করা এফিলিয়েট লিঙ্ক থেকে পণ্য কিনে নেয়। তখন এফিলিয়েট মার্কেটাররা আমাজন থেকে নির্দিষ্ট পরিমান কমিশন পায়।

আপনার জন্য আমাদের কিছুকথা

আপনারা অনেকেই জানতে চান যে, আমাজন এফিলিয়েট মার্কেটিং কিভাবে শুরু করবো। তো তাদের উদ্দেশ্যে আজকের এই আর্টিকেল টি লেখা হয়েছে। কারন, আজকে আমি আপনাকে আমাজন এফিলিয়েট মার্কেটিং করার প্রত্যেকটি বিষয় ধাপে ধাপে দেখিয়ে দিয়েছি।

তবে এরপরও যদি আপনার কোনো ধরনের  সমস্যা হয়। তাহলে নিচে কমেন্ট করে জানিয়ে দিবেন। আর এতক্ষন ধরে আমার লেখা আর্টিকেল টি পড়ার জন্য আপনাকে জানাচ্ছি অনেক অনেক ধন্যবাদ। ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *