ডিজিটাল জন্ম নিবন্ধন কার্ড কিভাবে করবেন?

বর্তমান সময়ে সবকিছুই  ডিজিটালাইজেশন করা হচ্ছে। আর এই প্রভাব থেকে বাদ পড়েনি জন্ম নিবন্ধন কার্ড। 

কেননা, আগের দিন গুলো তে হাতে লেখা জন্ম সনদ ব্যবহার করা হলেও। এখন অনলাইন ডেটাবেজে জন্ম নিবন্ধনের সকল তথ্য গুলো সংরক্ষন করে রাখা হচ্ছে। 

যার কারণে বর্তমান সময়ে আপনি অনলাইনে আপনার জন্ম নিবন্ধন সনদ যাচাই করার সুবিধা ভোগ করতে পারবেন।

তবে তার জন্য আপনাকে কি কি নিয়ম ফলো করতে হবে। সেগুলো নিচে ধাপে ধাপে দেখিয়ে দেওয়া হলো।  

ডিজিটাল জন্ম নিবন্ধন কার্ড কিভাবে করবেন?

ডিজিটাল জন্ম নিবন্ধন কার্ড কিভাবে করবেন?

যারা এখনও হাতে লেখা জন্ম সনদ ব্যবহার করছেন। তারা কিভাবে ডিজিটাল জন্ম নিবন্দন কার্ড করতে পারবেন। এবার আমি আপনাকে সেই পদ্ধতি গুলো স্টেপ বাই স্টেপ দেখিয়ে দিবো। 

কিভাবে ডিজিটাল জন্ম নিবন্ধন কার্ড করা যাবে?

আপনি যদি ডিজিটাল জন্ম নিবন্ধন কার্ড করতে চান। তাহলে আপনি বেশ কিছু পদ্ধতি ফলো করে আপনার হাতে লেখা জন্ম নিবন্ধন ডিজিটাল করতে পারবেন। আর সেই পদ্ধতি গুলো হলো, 

  1. অনলাইনে আবেদন করে,
  2. সরাসরি ইউনিয়ন পরিষদ, সিটি কর্পোরেশন বা পৌরসভা কার্যালয় থেকে। 

উপরের এই দুই (০২) টি উপায়ে হাতে লেখা জন্ম নিবন্ধন ডিজিটাল করা সম্ভব। আর এবার আমি আপনাকে দেখাবো যে, কিভাবে আপনি অনলাইনে আপনার জন্ম নিবন্ধন ডিজিটাল করতে পারবেন। 

অনলাইনে হাতে লেখা জন্ম নিবন্ধন ডিজিটাল করার উপায়

এই কাজটি করার জন্য প্রথমে আপনাকে একটি মোবাইল অথবা কম্পিউটারে ইন্টারনেট কানেকশন চালু করতে হবে। তারপর আপনাকে নিচে দেখানো পদ্ধতি গুলো ফলো করতে হবে। যেমন, 

  1. প্রথমে আপনি BDRIS এর ওয়েবসাইটে (https://bdris.gov.bd/) যাবেন। 
  2. তারপর আপনার সকল তথ্য দিয়ে একটি একাউন্ট তৈরি করবেন। 
  3. এবার আপনি “জন্ম নিবন্ধন পুনঃমুদ্রন” নামের একটি অপশন দেখতে পারবেন। আপনাকে সেখানে ক্লিক করতে হবে। 
  4. এখন আপনি আপনার আসল ”জন্ম তারিখ” টি বসিয়ে দিন। 
  5. তারপর ”অনুসন্ধান” নামক অপশনে ক্লিক করুন। 
See also  দুবাই ভিসা আজকের খবর | Dubai Visa Update

যদি আপনি উপরের কাজ গুলো সঠিক ভাবে করতে পারেন। তাহলে কিছু সময়ের মধ্যে আপনি আপনার জন্ম সনদে থাকা সকল তথ্য গুলো দেখতে পারবেন। 

আর তারপর আপনাকে পুনরায় নিচে দেখানো পদ্ধতি গুলো ফলো করতে হবে। যেমন, 

  1. এবার একটু নিচের দিকে তাকালে “নির্বাচন করুন” নামক একটি অপশন দেখতে পারবেন। 
  2. এর পরবর্তী ধাপে আপনাকে আপনার বেশ কিছু তথ্য প্রদান করতে হবে। 
  3. মনে রাখবেন, এখানে দেওয়া তথ্য গুলো তে যেন কোনো প্রকারের ভুল না থাকে। 
  4. সবশেষে আপনাকে ”সাবমিট” বাটন এর মধ্যে ক্লিক করতে হবে।

মূলত উপরের পদ্ধতি গুলোর মাধ্যমে আপনি অনলাইনে আপনার হাতে লেখা জন্ম নিবন্ধন ডিজিটাল করার জন্য সফল ভাবে আবেদন করলেন। 

তাই আপনাকে সেই অনলাইন আবেদন কপিটি ডাউনলোড করে নিতে হবে। তারপর উক্ত আবেদন কপিটি নিয়ে আপনাকে পুনরায় আপনার ইউনিয়ন পরিষদ, সিটি কর্পোরেশন বা পৌরসভা কার্যালয়ে যেতে হবে। 

আর যখন আপনি আপনার এই আবেদন কপিটি জমা দিবেন। তারপর আপনাকে প্রায় ৬ থেকে ৭ দিন অপেক্ষা করতে হবে। তারপর আপনি আপনার হাতে লেখা জন্ম নিবন্ধন ডিজিটাল করতে পারবেন। 

জন্ম নিবন্ধন ডিজিটাল ও অনলাইন কি একই?

আপনারা অনেকেই জানতে চান যে, জন্ম নিবন্ধন ডিজিটাল বা অনলাইন এগুলো কি একই নাকি ভিন্ন কিছু। 

তো যারা আসলে এমন প্রশ্ন করেন তাদের বলে রাখি যে, এই দুটোই হলো একই বিষয়। 

আর যখন আপনি আপনার জন্ম নিবন্ধন ডিজিটাল বা অনলাইন করবেন। তখন আপনার জন্ম নিবন্ধনে থাকা সকল তথ্য গুলো ইংরেজিতে থাকবে।

এর পাশাপাশি আপনি আপনর জন্ম নিবন্ধন এর প্রয়োজনীয় তথ্য গুলো অনলাইন থেকে যাচাই করতে পারবেন। 

আপনার জন্ম নিবন্ধন অনলাইনে না পাওয়া কারন কি?

আমাদের মধ্যে যে সকল মানুষের হাতে লেখা জন্ম নিবন্ধন আছে। তারা যখন তাদের জন্ম সনদ অনলাইন করতে যায়। 

See also  ই ভিসা কাকে বলে? ই ভিসার সকল তথ্য

তখন তারা দেখে যে, তাদের জন্ম নিবন্ধনের কোনো তথ্য অনলাইনে খুজে পাওয়া যায়না। আর তখনি তাদের মনে প্রশ্ন জাগে যে, কেন আমার জন্ম নিবন্ধন অনলাইনে পাচ্ছিনা। 

তো এই জন্ম নিবন্ধনের তথ্য না পাওয়ার পেছনে অনেক গুলো কারন থাকতে পারে। তার মধ্যে অন্যতম একট কারন হলো, আপনার জন্ম তথ্য অনলাইন সংরক্ষন থেকে বাদ পড়া। 

মূলত আগে যাদের হাতে লেখা জন্ম নিবন্ধন আছে। তাদের সকল তথ্য গুলো ম্যানুয়ালি অনলাইনে নেয়ার কাজ করা হয়েছে। 

আর ম্যানুয়ালি কাজ করার সময় হয়তবা ভুলবশত আপনার তথ্য গুলো জমা করা হয়নি। যার কারণে আপনার এই ধরনের সমস্যা হচ্ছে। 

তাই এটা নিয়ে চিন্তিত না থেকে আপনি আপনার সিটি কর্পোরেশন বা ইউনিয়ন পরিষদে যোগাযোগ করুন। আশা করি, আপনার এই সমস্যাটি সমাধান হয়ে যাবে। 

আপনার জন্য আমাদের শেষকথা 

আপনারা যারা ডিজিটাল জন্ম নিবন্ধন করতে চান। তাদের আসলে কি কি পদ্ধতি ফলো করতে হবে। আজকের আলোচনায় আমি আপনাকে সেই পদ্ধতি গুলো ধাপে ধাপে দেখিয়ে দিয়েছি। 

আশা করি, এই পদ্ধতি গুলো ফলো করতে আপনার কোনো ধরনের সমস্যা হবেনা। 

তবে এরপরও যদি আপনার কোনো ধরনের সমস্যা হয়। তাহলে আপনি আপনার সমস্যাটি নিচে কমেন্ট করে জানিয়ে দিবেন। 

আর এতক্ষন ধরে আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ। ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *