ফ্রিল্যান্সিং এর কোন কাজের চাহিদা বেশি?

বর্তমান সময়ে ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস গুলোতে বিভিন্ন ধরনের Freelancing Job পাওয়া যায়। তবে সে গুলোর মধ্যে এমন কিছু কাজ আছে, যেসব কাজের সবসময় চাহিদা থাকে। 
 
আর সেই চাহিদা সম্পন্ন কাজ গুলোর নাম শেয়ার করা হবে আজকের আর্টিকেলে।

ফ্রিল্যান্সিং এর কোন কাজের চাহিদা বেশি?

Table of Contents

১৩ টি ফ্রিল্যান্সিং কাজের চাহিদা বেশি

যখন আপনি ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে অনেক ক্যাটাগরির জব দেখতে পারবেন। কিন্তুু সে গুলোর মধ্যে যেসব জব এর চাহিদা রয়েছে। সেগুলো হলো, 

01 – Website Design (ওয়েব ডিজাইন)

বর্তমান সময়ে ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস গুলোতে ওয়েব ডিজাইন এর চাহিদা অনেক। আর সময়ের সাথে সাথে মানুষের ওয়েবসাইট তৈরি করা প্রয়োজন হচ্ছে। 
 
এখন আপনার যদি ওয়েব ডিজাইন করার দক্ষতা থাকে। তাহলে আপনার কাজের অভাব হবেনা। কারণ, এই দক্ষতার বিনিময়ে আপনি অনলাইনের পাশাপাশি অফলাইনেও কাজ করতে পারবেন। 
 
কারণ, ওয়েব ডিজাইন করার দক্ষতা থাকলে। আপনি অফলাইনে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরি করারও সুযোগ পাবেন। 

02 –  Digital Marketing ( ডিজিটাল মার্কেটিং)

যখন ইন্টারনেট ছিলোনা, তখন ডিজিটাল মার্কেটিং বলে কিছু জানতাম না। কিন্তুু এখন বিশ্বের প্রায় অধিকাংশ মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করে। 
 
তাই বিশ্বের জায়েন্ট কোম্পানি থেকে শুরু মাঝারি ব্যবসা পর্যন্ত। প্রায় সবাই ডিজিটাল ভাবে তাদের প্রসার ও প্রচারের কাজ করতে আগ্রহী হয়ে উঠেছে। 
 
তাই আপনার মধ্যে যদি ডিজিটাল ভাবে মার্কেটিং করার দক্ষতা থাকে। তাহলে আপনি এই ফ্রিল্যান্সিং জব করে নিজের ক্যারিয়ার গড়তে পারবেন। 
 

03 –  Copywriting (কপিরাইটিং)

কপিরাইটিং যাকে ডিজিটাল মার্কেটিং এর একটি অংশ বললেও ভুল হবেনা। কারণ, ডিজিটাল মার্কেটিং করার সময় আমরা বিভিন্ন Content এর ব্যবহার করি। যার মাধ্যমে আমরা কোনো ব্যবসা বা কোম্পানির পন্যের মার্কেটিং করি।  
 
সেক্ষেত্রে ডিজিটাল মার্কেটিং এর যতো বেশি চাহিদা থাকবে। কপিরাইটিং এর চাহিদাও বৃদ্ধি পাবে। তবে কপিরাইটিং করে সফল হতে হলে আপনাকে অবশ্যই দক্ষ রাইটার হতে হবে। 

04 – Graphic Design (গ্রাফিক ডিজাইন)

কোনো একটি বিষয় কে চিত্রশৈলীর মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলার কাজ কে বলা হয়, গ্রাফিক ডিজাইন। যাকে বর্তমান সময়ের চাহিদা সম্পন্ন ফ্রিল্যান্সিং কাজ হিসেবে ধরা হয়। 
 
আপনি একজন গ্রাফিক্স ডিজাইনার হতে পারলে ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে কাজ করতে পারবেন। এর পাশাপাশি অফলাইনের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতে পারবেন। 

05 – Virtual Assistance (ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট)

এটি হলো ফ্রিল্যান্সিং এর অনেক জনপ্রিয় একটি কাজ। যেখানে আপনি নিজের ঘরে বসে অনলাইন সহকারী হিসেবে কাজ করবেন। 
 
আর তার বিনিময়ে আপনি চাকরির মতো মাস শেষে বেতন নিবেন। 
 
এই কাজটি অনেক ডিমান্ডেবল। তাই ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট জব করতে হলে আপনার উচ্চতর শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রয়োজন হবে। 

06 – Online Security and Ethical Hacking (ইথিক্যাল হ্যাকিং)

মানুষ যতোদিন ইন্টারনেট ব্যবহার করবে, ততোদিন ইথিক্যাল হ্যাকিং এর চাহিদা থাকবে। তাই ফ্রিল্যান্সিং করতে চাইলে ইথিক্যাল হ্যাকিং শেখার চেস্টা করুন। 

07 – Artificial Intelligence (AI) Development (এআই ডেভলপমেন্ট)

যখন আমি এই আর্টিকেল টি লিখেছি তখন AI এর যাত্রা সবেমাত্র শুরু হয়েছে। আর শুরু থেকে মানুষ ব্যাপক ভাবে এআই ব্যবহারে অভ্যস্থ হয়ে পড়েছে। 
 
তো এই সুযোগে আপনি যদি AI Development এর কাজ শিখে নিতে পারেন। যার মাধ্যমে আপনি আপনার ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার গড়তে পারবেন। 

08 – Writing (রাইটিং) 

কন্টেন্ট রাইটিংকে ফ্রিল্যান্সিং মার্কেট প্লেস এর সম্মানজনক একটি পেশা হিসেবে ধরা হয়। আর যাদের লেখালেখি করার অভ্যাস আছে। তারা অনলাইনে বিভিন্ন ধরনের জব করতে পারবেন। 
 
যেমন, Copywriting, Blog Writing, Script Writing ইত্যাদি। আর কন্টেন্ট রাইটিং দক্ষতা থাকলে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরি করারও সুযোগ পাবেন। 

09 – Mobile App Development (অ্যাপস ডেভলপমেন্ট)

আমরা প্রত্যেকেই আমাদের ফোনে অ্যাপস ব্যবহার করি। আর এই অ্যাপস গুলোর ডেভলপ করার কাজ জানলে ফ্রিল্যান্সিং করা সম্ভব। 
 
আর চলমান সময়ে ফ্রিল্যান্সিং প্ল্যাটফর্ম গুলোতে অ্যাপস ডেভলপ এর কাজ অনেক হাই রেটে করানো হয়।

10 – Video Editing (ভিডিও এডিটিং)

মানুষ এখন ভিডিও দেখতে পছন্দ করে। যার কারণে কন্টেন্ট ক্রিয়েটর এর সংখ্যাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই আপনার যদি ভিডিও এডিটিং এর কাজ জানা থাকে। 
 
তাহলে আপনি (অনলাইন + অফলাইন) সবখানেই চাকরি করতে পারবেন। তবে এই ধরনের কাজ করতে হলে আপনার ভিডিও এডিট করার সুক্ষ জ্ঞান থাকতে হবে। 

11 – Search Engine Optimization (SEO) (এসইও)

যতো সময় যাবে ততো এসই এক্সপার্ট এর চাহিদা থাকবে। কারণ, এখন ডিজিটাল মার্কেটিং এর চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে। 
 
আর ডিজিটাল মার্কেটিং এর অন্যতম একটি অংশ হলো, এসইও। যার মাধ্যমে বিনামূল্যে কোনো পন্য এর মার্কেটিং করা সম্ভব।  

12 – Voice-Over (ভয়েস ওভার)

যদি আপনার কন্ঠস্বর ভালো হয় তাহলে আপনি ভয়েস ওভার করে ফ্রিল্যান্সিং করতে পারবেন। যেখানে আপনি স্ক্রিপ্ট দেখে নিজের ভয়েস রেকর্ড করবেন। 
 
আর সেই রেকর্ড গুলো সেল করে অনলাইন থেকে ইনকাম করতে পারবেন। তবে এই কাজটি করতে হলে আপনার রেকর্ডিং সেটআপ থাকতে হবে।    

13 – User Testing (ইউজার টেষ্টিং)

কোনো একটি অ্যাপস বা ওয়েবসাইট তৈরি করার পর সেগুলো টেস্ট করানো হয়। যেন ভুল থাকলে সেটা জানা যায়। 
 
আর আপনিও এই ধরনের ইউজার টেস্টিং এর কাজ করতে পারবেন। যে কাজের ব্যাপক পরিমান চাহিদা আছে।

 

NOTE: পরবর্তী সময়ে এই তালিকাটি আপডেট করা হবে। যেন আপনি ফ্রিল্যান্সিং কাজের চাহিদা বেশি সেটা জানতে পারেন।

 

See also  ডিজিটাল মার্কেটিং A to Z (বাংলা টিউটোরিয়াল)

Q: ফ্রিল্যান্সারদের কি চাহিদা আছে?

A: দেখুন, সময় যতো অতিবাহিত হচ্ছে, প্রযুক্তি ঠিক ততোটাই উন্নত হচ্ছে। আর সেই উন্নতির ছোঁয়া থেকে ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস গুলোও বাদ পড়ছে না। 
 
তাই আপনি যদি এই উন্নত প্রযুক্তির সাথে তাল মিলিয়ে চলতে চান। তাহলে আপনাকে অবশ্যই নিদিষ্ট কাজে পরিপূর্ণ দক্ষতা অর্জন করতে হবে। 
 
কেননা, ভবিষ্যতে ফ্রিল্যান্সিং সেক্টরে শুধুমাত্র সেই সকল ফ্রিল্যান্সাররা টিকে থাকতে পারবে। যারা প্রকৃতপক্ষে দক্ষ ফ্রিল্যান্সার। 
 
কিন্তুু আপনি যদি আপনার কাজ শেখার সময় ফাঁকিবাজি করেন। তাহলে আপনাকে ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস থেকে ছিটকে পড়তে হবে।  

Q: ভবিষ্যত সময়ে ফ্রিল্যান্সিং কি বাড়বে?

A: হুমম অবশ্যই আশা করা হচ্ছে, আগামী বছর গুলো তে ফ্রিল্যান্সিং মার্কেট প্লেস ক্রমাগত বৃদ্ধি পাবে। যেখানে আপনি অনলাইনে কাজ করার সুযোগ পাবেন।

Q: ফ্রিল্যান্সিং করে ক্যারিয়ার গড়তে আপনার কোন কাজে সবচেয়ে বেশি আগ্রহ থাকা উচিত?

A: দেখুন, ফ্রিল্যান্সিং করে যদি ক্যারিয়ার গড়ার চিন্তা করেন। তাহলে আপনাকে দেখতে হবে যে, বর্তমানে এবং ভবিষ্যতে কোন কাজের চাহিদা থাকবে। 
 
এর পাশাপাশি কোন কাজ গুলো তে সবচেয়ে বেশি টাকা ইনকাম করা যায়, সে বিষয়টিও ভাবতে হবে। 
 
সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, আপনি আসলে কোন কাজটি ভালোভাবে শিখতে পারবেন। সেই বিষয়টিও যথেষ্ট গুরুত্ব দিতে হবে। 
 
কারন, যে কাজটি আপনি শিখতে পারবেন না, কিংবা শেখার আগ্রহ নেই। সেই কাজে অযথা সময় ব্যয় করা বোকামি হবে। 

Q: আমি কি 2024 সালে ফ্রিল্যান্সিং শুরু করব?

A: আপনি যে কোনো সময়, যে কোনো বয়সে ফ্রিল্যান্সিং শুরু করতে পারবেন। সেজন্য আপনার মধ্যে ফ্রিল্যান্সিং শেখার যথেষ্ট আগ্রহ থাকতে হবে। 

Q: ফ্রিল্যান্সিং করে কি ফুল টাইম কাজ করা যায়?

A: হুমম, আপনি ফুল টাইম বা পার্ট টাইম দুই (০২) ভাবেই ফ্রিল্যান্সিং করতে পারবেন। 
 
তবে যদি আপনি ফুল টাইম হিসেবে ফ্রিল্যান্সিং করেন। তাহলে আপনার ইনকাম এর পরিমান বেশি হবে। আর পার্ট টাইম হিসেবে করলে, তুলনামূলক কম ইনকাম হবে। 

Q: Upwork এ কত টাকা আয় করা যায়?

A: সহজ কথায় বলতে গেলে, আপনি যতো বেশি কাজ করবেন। আপনার ইনকাম ততো বেশি হবে। 
 
আর স্বাভাবিক ভাবে আপওয়ার্কে দক্ষতা সম্পন্ন ফ্রিল্যান্সার $50-60 (ঘন্টায়) ইনকাম করতে পারে। 

Q: আমি কি ফ্রিল্যান্সিং কাজ করতে পারি?

A: আপনার যদি ইচ্ছা থাকে, তাহলে আপনি যেকোনো সময় কাজ শিখতে পারবেন। আর কাজ শেখার পর বিভিন্ন অনলাইন মার্কেটপ্লেসে ফ্রিল্যান্সিং করতে পারবেন। 

Q: ফ্রিল্যান্সিং কোন কাজ নতুনদের সহজ?

A: সত্যি বলতে ফ্রিল্যান্সিং এর সহজ কাজ বলতে কিছু নেই। তুলনামূলক ভাবে সহজ একট কাজের নাম হলো, ডাটা এন্ট্রি। 
 
কিন্তুু এই কাজের বিনিময়ে খুব কম টাকা আয় করা যায়। এছাড়াও ভবিষ্যতে ডাটা এন্ট্রি কাজের চাহিদাও অনেক কমে আসবে। 

Q: অভিজ্ঞতা ছাড়া কি ফ্রিল্যান্সিং করা যায়?

A: না, আপনার যদি ফ্রিল্যান্সিং কাজে কোনো ধরনের অভিজ্ঞতা না থাকে। তাহলে আপনি এই সেক্টরে কোনো কিছুই করতে পারবেন না। 
 
কারণ, আপনি যদি কোনো কাজ না জানেন। তাহলে কোনো বায়ার আপনাকে কাজ দিবেনা। 
 
আর কাজ না করলে, আপনি কোনো ইনকামও করতে পারবেন না। তাই ফ্রিল্যান্সিং করার জন্য দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার প্রয়োজন হবে। 

Q:ফ্রিল্যান্সিং কাজ কতটা কঠিন?

A: প্রতিটা কাজ শুরুর দিকে আপনার কঠিন মনে হবে। কিন্তুু আপনার মধ্যে যদি কাজ শেখার আগ্রহ থাকে। তাহলে আপনি সব কাজ শিখতে পারবেন। 
 
কারন, প্রবাদে আছে “ইচ্ছে থাকলে উপায় হয়” এবং “চেষ্টা করলেই সফলতা পাওয়া যায়।”

আমাদের শেষকথা

ফ্রিল্যান্সিং এর কোন কাজের চাহিদা বেশি আজকে সেই কাজ গুলো সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। এর পাশাপাশি ভবিষ্যতে কোন ফ্রিল্যান্সিং কাজের চাহিদা থাকবে। সে সম্পর্কে সঠিক ধারনা দেওয়া হয়েছে। আশা করি, আজকের এই আর্টিকেল টি নতুনদের জন্য অনেক হেল্পফুল হবে। 
 
তো আপনি যদি ফ্রিল্যান্সিং কিংবা অনলাইন ইনকাম সম্পর্কে আরো অজানা বিষয় গুলো জানতে চান। তাহলে আমাদের সাথে থাকবেন। আর আর্টিকেল এর শেষ পর্যন্ত আসার জন্য আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ। ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *