অস্ট্রেলিয়া কাজের ভিসা আবেদন করার উপায়

বর্তমান সময়ে আমাদের বাংলাদেশ থেকে অনেক মানুষ কাজের ভিসায় অষ্ট্রেলিয়া যেতে চায়। আর আপনিও যদি তাদের মধ্যে একজন হয়ে থাকেন। তাহলে আপনাকে আসলে কি কি নিয়ম মানতে হবে। আর অষ্ট্রেলিয়া কাজের ভিসার জন্য কোন ডকুমেন্টস গুলো দিতে হবে। সেগুলো নিয়েই আজকে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। 

 

অস্ট্রেলিয়া কাজের ভিসা

 

 

Table of Contents

অস্ট্রেলিয়া কাজের ভিসা আবেদন করার উপায়

আপনি চাইলে অনলাইন থেকে অষ্ট্রেলিয়া কাজের ভিসার আবেদন করতে পারবেন। তবে যদি আপনি নিজের ঘরে বসে অষ্ট্রেলিয়া কাজের ভিসার আবেদন করতে চান। তাহলে আপনাকে নিচে দেখানো পদ্ধতি গুলো ফলো করতে হবে। যেমন, 

 

  1. সবার শুরুতে আপনাকে (https://immi.homeaffairs.gov.au) এই ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে হবে। 

  2. তারপর আপনি অষ্ট্রেলিয়ার ভিসা আবেদন করার সরকারি ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে পারবেন। 

  3. এবার আপনাকে বামপাশের মেনু অপশনে ক্লিক করতে হবে। 

  4. সেখানে আপনি একটু নিচের দিকে “Working in Australia” নামের একটি অপশন দেখতে পারবেন। আপনাকে সেখানে ক্লিক করতে হবে। 

 

এবার আপনি বিভিন্ন ধরনের অপশন দেখতে পারবেন। আর সেখানে কি কি অপশন থাকবে। সেগুলো নিচের পিকচারে দেখানো হলো। 

 

তো আপনি আসলে কোন ধরনের ভিসা নিতে চান। সেটি আপনাকে এখান থেকে সিলেক্ট করে দিতে হবে। কেননা, উক্ত পেজে আপনি বিভিন্ন ধরনের ভিসার তালিকা দেখতে পারবেন। যেমন, 

See also  বাংলাদেশ থেকে মাল্টা যাওয়ার উপায় ২০২৩

 

  1. Permanent work visas,

  2. Visas for innovation,

  3. Temporary work visas,

  4. Short stay work visas,

 

এছাড়াও উক্ত ওয়েবসাইটে আপনি আরো সাব ক্যাটাগরির অষ্ট্রেলিয়া কাজের ভিসার নাম দেখতে পারবেন। যেমন,  

 

  1. Employer Nomination Scheme (ENS) Visa,

  2. Regional Sponsored Migration Scheme (RSMS) visa,

  3. Skilled Independent visa, 

  4. Skilled Nominated visa, 

  5. Training visa, 

  6. Temporary Skill Shortage (TSS) visa, 

  7. Temporary Graduate visa – Graduate Work, 

  8. Skilled Regional (Provisional) visa, 

  9. Skilled Work Regional (Provisional) visa, 

  10. Skilled Employer Sponsored Regional (provisional) visa,

 

তো আপনি আসলে যে ধরনের ভিসার জন্য আবেদন করতে চান। এখান থেকে আপনাকে সেটি সিলেক্ট করে দিতে হবে। তারপর আপনার ভিসার ধরন অনুযায়ী কি কি নিয়ম ফলো করতে হবে। সেগুলো তারা আপনাকে বলে দিবে। 

 

আর আপনারা যারা অষ্ট্রেলিয়া কাজের ভিসার জন্য আবেদন করতে চান। তারা উক্ত ওয়েবসাইট থেকে Permanent work visas এবং Temporary work visas তে ক্লিক করবেন। তারপর আপনাকে পরবর্তী নির্দেশনা মোতাবেক কাজ করতে হবে। 

কিভাবে অষ্ট্রেলিয়া ”Permanent work visa” আবেদন করবেন?

যদি আপনি অষ্ট্রেলিয়া তে পার্মানেন্ট কাজের ভিসার আবেদন করতে চান। তাহলে আপনাকে নিচে দেখানো নিয়ম অনুযায়ী কাজ করতে হবে। যেমন, 

 

  1. সবার প্রথমে এখানে ক্লিক করুন। 

  2. এরপর আপনি “Permanent work visas” অপশনে ক্লিক করুন। 

  3. তারপর সেখানে আপনি মোট ০৪ ধরনের ভিসার প্রকারভেদ দেখতে পারবেন। যেমন, Regional visas, Skilled migration visas, Business investment visas, Global Talent visas.

  4. এবার আপনাকে আপনার স্কিল (দক্ষতা) অনুযায়ী ভিসার তালিকা দেখানো হবে। 

  5. তো আপনার যে কাজে দক্ষতা আছে, আপনাকে সেই কাজের ভিসার উপর ক্লিক করতে হবে। 

 

সবশেষে আপনার সেই ভিসার জন্য কি কি করতে হবে, কোন ডকুমেন্টস দিতে হবে। সেই বিষয় গুলো আপনি টেক্সট আকারে দেখতে পারবেন। সেইসাথে উক্ত ভিসার জন্য আপনাকে আসলে কত টাকা ফি দিতে হবে। সেটিও আপনি উক্ত অপশন থেকে দেখতে পারবেন। 

কিভাবে অষ্ট্রেলিয়া ”Temporary work visa” আবেদন করবেন?

আপনি যদি অষ্ট্রেলিয়াতে Temporary work visas এর জন্য আবেদন করতে চান। তাহলে আপনাকে যে সকল নিয়ম ফলো করতে হবে। সেগুলো নিচে ধাপে ধাপে দেখিয়ে দেওয়া হলো। যেমন, 

See also  মালয়েশিয়া ওয়ার্কার ভিসা চেক করার নিয়ম

 

  1. সবার প্রথমে এই ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন। 

  2. তারপর ”Temporary work visa” এর মধ্যে ক্লিক করুন। 

  3. এরপর আপনি আপনার দক্ষতা ও প্রয়োজনীয় ভিসা সিলেক্ট করুন। 

 

তারপর আপনাকে আপনার অষ্ট্রেলিয়া টেম্পরারি ভিসার আবেদন করতে কি কি করতে হবে। সেগুলো তারা আপনাকে জানিয়ে দিবে। সেইসাথে এই ধরনের অষ্ট্রেলিয়া কাজের ভিসার জন্য কত টাকা ফি দিতে হবে। তার পরিমান উক্ত লিংক থেকে জানতে পারবেন। 

অস্ট্রেলিয়া কৃষি কাজের ভিসা আবেদন করার উপায়?

আপনি চাইলে অষ্ট্রেলিয়া তে কৃষি ভিসার জন্য আবেদন করতে পারবেন। তবে আমাদের দেশ থেকে কৃষি ভিসার জন্য প্রায় ০৮ লাখ থেকে ০৯ লাখ টাকার প্রয়োজন হয়। আর যখন আপনি অষ্ট্রেলিয়া তে কৃষি ভিসায় যেতে পারবেন। 

 

তখন সেখানে কাজ করে প্রায় ৯০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ০২ লাখ টাকা পর্যন্ত বেতন এর সুবিধা নিতে পারবেন। তবে অষ্ট্রেলিয়া তে কৃষি ভিসায় যাওয়ার পর আপনার বেতন কত হবে। সেটি সম্পূর্ণ ভাবে নির্ভর করবে আপনার কাজ করার অভিজ্ঞতার উপর। 

 

আর যদি আপনি অষ্ট্রেলিয়া কৃষি ভিসার জন্য আবেদন করতে চান। তাহলে এখানে ক্লিক করুন। তারপর তারা আপনাকে কৃষি ভিসার জন্য যে সকল নির্দেশনা প্রদান করবে। আপনাকে সেই নির্দেশনা গুলো মেনে কাজ করতে হবে। 

অস্ট্রেলিয়া কাজের বেতন কত?

উত্তরঃ অষ্ট্রেলিয়া তে আপনার কাজের বেতন দক্ষতা ও কাজের উপর নির্ভর করবে। তবে সাধারনত অষ্ট্রেলিয়াতে কাজের বেসিক বেতন ৪৫ হাজার করে প্রদান করা হয়। 

অস্ট্রেলিয়ায় সবচেয়ে বেশি বেতনের চাকরি কোনটি?

উত্তরঃ চিকিৎসা ক্ষেত্রে অষ্ট্রেলিয়া তে সবচেয়ে বেশি বেতন পাওয়া যায়। 

অস্ট্রেলিয়া ক্লিনার ভিসা পাওয়া যাবে কি?

উত্তরঃ হ্যাঁ, আপনি অষ্ট্রেলিয়াতে অন্যান্য কাজের পাশাপাশি ক্লিনার ভিসার জন্য আবেদন করতে পারবেন। তবে তার জন্য আপনাকে অষ্ট্রেলিয়া ক্লিনার ভিসার জন্য প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস ও ফি দিয়ে আবেদন করতে হবে।  

অস্ট্রেলিয়া কৃষি ভিসার জন্য যোগ্যতা কি?

উত্তরঃ অষ্ট্রেলিয়াতে কৃষি ভিসার জন্য আপনার সর্বনিন্ম বয়স ২১ বছর হতে হবে। সেইসাথে আপনার অতীতে কৃষিকাজের সাথে জড়িত থাকার প্রমান হিসেবে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস প্রদান করতে হবে। আর অষ্ট্রেলিয়া কৃষি ভিসার জন্য কোনো সর্বোচ্চ বয়সসীমা নির্ধারন করা নেই। 

See also  বাংলাদেশ থেকে আমেরিকা যাওয়ার উপায়

অস্ট্রেলিয়া কৃষি কাজের বেতন কত?

উত্তরঃ বর্তমান সময়ে অষ্ট্রেলিয়া তে কৃষিকাজের জন্য প্রায় ৯০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত বেতন প্রদান করা হয়। 

অস্ট্রেলিয়া ভিসা কত প্রকার?

উত্তরঃ অস্ট্রেলিয়ান সরকার মূলত ৬ (ছয়) ধরনের ভিসা দিয়ে থাকে। এগুলো হলো- 

 

  1. Visitor visas, 

  2. Working and skilled visas, 

  3. Studying visas, 

  4. Family and spousal visas, 

  5. Other visas, 

  6. Repealed visas 

 

এগুলো হলো অষ্ট্রেলিয়ান ভিসার প্রকারভেদ। তবে উক্ত ভিসার আরো অনেক ধরনের সাব ক্যাটাগরি ভিসা আছে। 

অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্ব পাওয়ার উপায়?

উত্তরঃ আপনি যদি অষ্ট্রেলিয়ান নাগরিকত্ব পেতে চান। তাহলে আপনাকে অস্ট্রেলিয়ান নাগরিকত্ব পরীক্ষায় 75% বা তার বেশি নম্বর নিয়ে পাস করতে হবে। এছাড়াও আপনার বয়স ৬০ বছরের কম হতে হবে। 

৩০ বছর পর কি অস্ট্রেলিয়া ভিসা পাওয়া যাবে?

উত্তরঃ সর্বোচ্চ ৩৫ বছর বয়স পর্যন্ত আপনি অষ্ট্রেলিয়া ভিসা আবেদন করতে পারবেন। 

অস্ট্রেলিয়ায় বাবা মায়ের জন্য কোন ভিসা ভালো?

উত্তরঃ কন্ট্রিবিউটরি এজড প্যারেন্ট (অস্থায়ী) ভিসা – (সাবক্লাস 884) এবং কন্ট্রিবিউটরি এজড প্যারেন্ট ভিসা – (সাবক্লাস 864) এই দুটি ভিসা ভালো হবে। 

 

অস্ট্রেলিয়া ট্যুরিস্ট ভিসা ষ্টুডেন্ট ভিসা পরিবর্তন করা যাবে?

উত্তরঃ অস্ট্রেলিয়া ট্যুরিস্ট ভিসা সাধারণত ০১ বছরের জন্য প্রদান করা হয়। আর উক্ত ভিসার মাধ্যমে আপনি যে কোনো সময় সর্বোচ্চ ০৩ মাস পর্যন্ত অষ্ট্রেলিয়া তে অবস্থান করতে পারবেন। 

অস্ট্রেলিয়ায় পড়াশোনার জন্য টুরিস্ট ভিসা রূপান্তর করা কি সহজ?

উত্তরঃ না, বরং অষ্ট্রেলিয়া পড়াশোনার জন্য ট্যুুরিস্ট ভিসা কে রুপান্তর করার জন্য আপনাকে অনেক কাজ করতে হবে। আর তার জন্য আপনাকে প্রচুর সময় ধরে অপেক্ষা করতে হবে। 

অস্ট্রেলিয়া স্টুডেন্ট ভিসার দাম কত?

উত্তরঃ বর্তমান সময়ে অষ্ট্রেলিয়া স্টুডেন্ট ভিসার জন্য AUD 650 খরচ করার প্রয়োজন পড়ে। 

অস্ট্রেলিয়া স্টুডেন্ট ভিসা ২০২৩ এর জন্য ব্যাংক ব্যালেন্স কত লাগবে?

উত্তরঃ অস্ট্রেলিয়ান স্টুডেন্ট ভিসা আবেদনের জন্য অস্ট্রেলিয়া স্টুডেন্ট ভিসা ($21,041) ব্যাঙ্ক ব্যালেন্স প্রয়োজন। 

অস্ট্রেলিয়ার লেভেল ১ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য কি ব্যাংক স্টেটমেন্ট প্রয়োজন?

উত্তরঃ হ্যাঁ, অস্ট্রেলিয়ান স্টাডি ভিসার জন্য আবেদনকারী প্রার্থীদের ফি প্রদানের জন্য যথেষ্ট মূলধন রয়েছে। সেটি প্রমাণ করার জন্য ব্যাঙ্ক স্টেটমেন্ট প্রদান করতে হবে।

কোন বিমান ভারত থেকে অস্ট্রেলিয়া সরাসরি উড়ে যায়?

উত্তরঃ এয়ার ইন্ডিয়া, ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্স এবং কান্টাস -এই বিমান গুলো ভারত থেকে অষ্ট্রেলিয়া সরাসরি যায়। 

আপনার জন্য আমাদের কিছুকথা

যারা মূলত অষ্ট্রেলিয়া কাজের ভিসা আবেদন করতে চান। তাদের জন্য আজকের এই আর্টিকেল টি অনেক হেল্পফুল হবে। কেননা, আপনি কিভাবে অষ্ট্রেলিয়া কাজের ভিসার আবেদন করতে পারবেন। সেই পদ্ধতি গুলোকে আজকে ধাপে ধাপে দেখিয়ে দেওয়া হয়েছে। 

 

তো যদি আপনি এই ধরনের অজানা বিষয় গুলো সবার আগে জানতে চান। তাহলে নিয়মিত আমাদের ওয়েবসাইটে ভিজিট করবেন। ধন্যবাদ, ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন। 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *