ট্রাফিক কাকে বলে? কত প্রকার ও কি কি?

একজন চালক যখন রাস্তায় নির্দিষ্ট কোনো যানবাহন চালনা করবে। তখন সেই চালক কে নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম মেনে চলতে হবে। তো এই নির্দিষ্ট নিয়ম কানুন গুলোকে বলা হয়, ট্রাফিক আইন। যেমন, সিগন্যাল মেনে চলা, যেখানে সেখানে পাকিং না করা, যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রন করা ইত্যাদি।

 

তবে দেশ বা অঞ্চল ভেদে এই ট্রাফিক আইন ভিন্ন ভিন্ন হয়। যেমন, আপনি আমাদের বাংলাদেশের মধ্যে যে ট্রাফিক আইন দেখতে পারবেন। তার সাথে ভারতের ট্রাফিক আইনের মধ্যে অনেকটা পরিবর্তন লক্ষ্য করতে পারবেন। 

ট্রাফিক আইন কত প্রকার ও কি কি?

বর্তমান সময়ে আমাদের বাংলাদেশের মধ্যে আপনি প্রধানত ০৩ ধরনের ট্রাফিক আইন লক্ষ্য করতে পারবেন। আর সেই আইন গুলো আমাদের দেশের সকল যানবাহন চালকদের মান্য করতে হয়। আর সেই ট্রাফিক আইন গুলো হলো, 

 

  1. বাহুর সংকেত, 

  2. আলোর সংকেত ও 

  3. শব্দ সংকেত,

 

মূলত আমাদের বাংলাদেশের মধ্যে যে সকল ট্রাফিক আইন আছে। সেগুলো কে এই সংকেতের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। তবে এখানে একটা কথা বলে রাখা ভালো যে, বাংলাদেশের যানবাহন চালকদের জন্য প্রায় ১৫০ টিরও বেশি চিহ্ন রয়েছে। যেগুলো কে ট্রাফিক আইনের বাধ্যতামূলক, সতর্কতামূলক, তথ্যমূলক চিহ্ন হিসেবে ধরা হয়। 

ট্রাফিক আইন কাকে বলে? কত প্রকার ও কি কি?

বাংলাদেশে কত সালে ট্রাফিক আইন গঠন করা হয়েছিলো?

এতক্ষনের আলোচনা থেকে আমরা জানতে পারলাম, ট্রাফিক আইন কি ও ট্রাফিক আইন কত প্রকার। তো এবার আমাদের জানতে হবে যে, আমাদের বাংলাদেশে কত সালে ট্রাফিক আইন গঠন করা হয়েছিলো। 

See also  নিকাশ ঘর কাকে বলে? কাজ ও প্রয়োজনীয়তা

 

তো আমাদের বাংলাদেশের মধ্যে বিভিন্ন প্রকারের সড়ক দূর্ঘটনা এড়ানো ও যান চলাচলে নিরাপত্তার কথা ভেবে। আমাদের বাংলাদেশের সরকার থেকে ১৯৮৩ সালে সর্বপ্রথম ট্রাফিক আইন বাস্তবায়ন করা হয়েছিলো। আর উক্ত আইনের নাম দেওয়া হয়েছিলো, “মোটরযান আইন”।

ট্রাফিক আইন এর গুরুত্ব কতটুকু?

যদি আপনি জানতে চান যে, ট্রাফিক আইনের গুরুত্ব কতটুকু। তাহলে আমি বলবো যে, যান চলাচল এর সুরক্ষা ও সড়ক দূর্ঘটনা এড়ানোর জন্য ট্রাফিক আইনের গুরুত্ব অপরিসীম। কেননা, যদি ট্রাফিক আইন না থাকে। তাহলে কিন্তুু যানবাহন চলাচলে কোনো বাধানিষেধ থাকবে না। 

 

এর ফলে অনেক যান চালক বেপরোয়া ভাবে রাস্তায় যান চলাচল করবে। আর সেই কারণে রাস্তায় প্রতিয়ত বিভিন্ন ধরনের সড়ক দূর্ঘটনার সৃষ্টি হবে। কিন্তুু ট্রাফিক আইন শুধুমাত্র সড়ক দূর্ঘটনা নিয়ন্ত্রন করেনা। 

 

বরং এর মাধ্যমে রাস্তায় ট্রাফিক জ্যাম কম হয়, জরুরী যানবাহন গুলো নির্বিঘ্নে রাস্তায় চলাচল করতে পারে। আর এই যাবতীয় দিক বিবেচনা করলে আপনি দেখতে পারবেন যে, বর্তমান সময়ে ট্রাফিক আইন এর অনেক গুরুত্ব রয়েছে। 

রাস্তায় চলাচলের ক্ষেত্রে কী কী ট্রাফিক আইন মেনে চলতে হবে?

আপনি যখন কোনো যানবাহন নিয়ে রাস্তায় চলাচল করবেন। তখন অবশ্যই আপনাকে সেই দেশের ট্রাফিক আইন মান্য করতে হবে। আর আপনি যদি সেই ট্রাফিক আইন মান্য না করেন। তাহলে আপনাকে আপনার ভুলের জন্য জরিমানা প্রদান করতে হবে। 

 

তো রাস্তায় যান চালকদের বিভিন্ন ধরনের ট্রাফিক আইন মেনে চলতে হয়। যেমন, যানবাহন এর গতি কমানো বা গতি বাড়ানো, রাস্তায় মোড় ঘুরানো, গাড়ি পাকিং করা, ট্রাফিক সংকেত ফলো করা, সিট বেল্ট বা হেলমেট ব্যবহার করা ইত্যাদি। 

পথচারীদের রাস্তা পারাপারের সময় কি করা উচিত?

যখন আপনি একজন পথচারী হয়ে রাস্তা পারাপার করতে চাইবেন। তখন আপনার প্রধান কাজ হবে, জেব্রা ক্রসিং এর উপর দিয়ে রাস্তা পার হওয়া। এছাড়াও যখন আপনি রাস্তা পার হওয়ার চেষ্টা করবেন। তখন আপনি ভুলেও তাড়াহুড়ো করবেন না। মনে রাখবেন, একটি সামান্য দূর্ঘটনা আপনার সারা জীবনের কান্নার কারণ হতে পারে। 

See also  কম সিজিপিএ নিয়ে বিদেশে উচ্চশিক্ষা নেয়া যায়?

ট্রাফিক আইন মেনে চলার সুবিধা কি?

যদি আমরা সবাই ট্রাফিক আইন মেনে চলি। তাহলে আমার বিশেষ কিছু সুবিধা লক্ষ্য করতে পারবো। আর সেই সুবিধা গুলো হলো, 

 

  1. রাস্তাঘাটে সড়ক দূর্ঘটনা কম হবে। 

  2. রাস্তায় ট্রাফিক জ্যাম এর পরিমান কম হবে। 

  3. যেসকল জরুরী যানবাহন আছে, সেগুলো অবাধে চলতে পারবে। যেমন, ফায়ার সার্ভিস, অ্যাম্বুলেন্স ইত্যাদি। 

  4. রাস্তায় চালক ও পথচারী সবাই নিরাপদ থাকবে। 

 

মূলত আমরা সবাই যদি ট্রাফিক আইন মান্য করি। তাহলে আমরা যে সকল সুবিধা পাবো। সেই সুুবিধা গুলো উপরে উল্লেখ করা হয়েছে। তাই আমাদের সবার উচিত ট্রাফিক আইন মান্য করা। 

ট্রাফিক বাতি লাল হলুদ ও সবুজ হয় কেন?

আপনি যখন ট্রাফিক সিগন্যাল গুলোর দিকে লক্ষ্য করবেন। তখন আপনি মোট ০৩ ধরনের বাতি দেখতে পারবেন। আর সেগুলো হলো, সবুজ আলো, লাল আলো এবং হলুদ আলো। তো এই ভিন্ন আলোর মাধ্যমে বেশ কিছু সংকেত প্রদান করা হয়। যেমন, 

 

  1. লাল বাতি জ্বললে বুঝতে হবে যে, যানবাহন অবশ্যই থামতে হবে। 

  2. সবুজ বাতি জ্বললে বুঝতে হবে, যানবাহন এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। 

  3. আর হলুদ বাতি জ্বললে আপনাকে বুঝতে হবে, আপনার যানবাহন এর গতি কমাতে হবে। 

 

তো যখন আপনি রাস্তায় এই বাতি গুলো দেখতে পারবেন। তখন আপনাকে বাতির আলো দেখে উক্ত ‍বিষয় গুলো বুঝতে হবে। 

আপনার জন্য আমাদের কিছুকথা

প্রিয় পাঠক, আজকে আমরা জেনেছি যে, ট্রাফিক আইন কি ও ট্রাফিক আইন কত প্রকার। এছাড়াও আমি আপনাকে ট্রাফিক আইন সম্পর্কে এমন কিছু বলেছি। যেগুলো আপনার জেনে নেওয়া দরকার। 

 

তো আমি প্রতিনিয়ত এই ধরনের অজানা বিষয় গুলো নিয়ে এই ওয়েবসাইটে আর্টিকেল পাবলিশ করি। যদি আপনি সেগুলো সম্পর্কে জানতে চান। তাহলে Niru Web এর সাথে থাকবেন। ধন্যবাদ। 

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *