মোটরসাইকেলের ড্রাইভিং লাইসেন্স করার নিয়ম

আপনি চাইলে খুব সহজেই মোটরসাইকেলের ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে পারবেন। তবে সেজন্য আপনাকে বেশ কিছু নিয়ম ফলো করতে হবে। যেমন,  

 

  1. সবার প্রথমে আপনাকে BRTA ওয়েবসাইটে একটি একাউন্ট রেজিষ্ট্রেশন করে নিতে হবে। 

  2. আর রেজিষ্ট্রেশন করার সময় আপনার এনআইডি কার্ড এর দরকার হবে। 

  3. সেই সাথে একাউন্ট করার পর আপনাকে আরো অনেক প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান করতে হবে। 

  4. উক্ত তথ্য গুলো দিয়ে একটি অনলাইন ফরম পূরণ করতে হবে। 

  5. এরপর আপনার পরীক্ষা ও ফিল্ড টেষ্ট এর তারিখ এবং সময় মোবাইলের মেসেজে জানিয়ে দেওয়া হবে। 

  6. সবশেষে উক্ত পরীক্ষাতে উত্তীর্ন হওয়ার পর আপনি মোটরসাইকেলের ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে পারবেন। 

 

উপরের আলোচনা তে মোটরসাইকেলের ড্রাইভিং লাইসেন্স করার নিয়ম গুলোকে খুব সংক্ষিপ্ত আকারে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে আপনি যখন এই নিয়ম গুলো ফলো করবেন। তখন আপনাকে আরো বিভিন্ন কাজ করতে হবে। আর এবার আমি আপনাকে সেই কাজ গুলো ধাপে ধাপে দেখিয়ে দিবো। 


মোটরসাইকেলের ড্রাইভিং লাইসেন্স করার নিয়ম

মোটরসাইকেলের লাইসেন্স করতে কি কি লাগে?

দেখুন, মোটরসাইকেলের ড্রাইভিং লাইসেন্স করার নিয়ম গুলো জানার আগে। এই লাইসেন্স করতে আপনার কি কি কাগজপত্র জমা দিতে হবে। সেগুলো সম্পর্কে সবার আগে জেনে নিতে হবে। 

 

আর বর্তমান সময়ে আপনি যদি মোটরসাইকেলের ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে যান। তাহলে আপনার নিচে উল্লেখিত কাগজ পত্র গুলোর প্রয়োজন হবে। যেমন, 

 

  1. আপনার নিজের জন্ম নিবন্ধন সনদ, 

  2. পাসপোর্ট এর কপি (যদি থাকে),  

  3. জাতীয় পরিচয় পত্রের ফটোকপি,  

  4. আবেদনকৃত লার্নার ড্রাইভিং লাইসেন্স এর কপি জমা দিতে হবে, 

  5. আপনার সদ্য তোলা পাসপোর্ট সাইজ ছবি, 

  6. নন প্রফেশনাল ড্রাইভিং লাইসেন্স ফর্ম, 

See also  সাংবিধানিক আইন কাকে বলে? বাংলাদেশ সংবিধান

 

উপরের তালিকা তে আপনি যে সকল ডকুমেন্টস এর নাম দেখতে পাচ্ছেন। মূলত আপনার মোটরসাইকেলের ড্রাইভিং লাইসেন্স করার সময় এই ডকুমেন্টস গুলোর প্রয়োজন হবে। তারপর আপনাকে এই সব ডকুমেন্টস গুলোকে এক করে বিআরটিএ তে জমা দিতে হবে। 

 

আর যখন আপনি উক্ত ডকুমেন্টস গুলো এক করে বিআরটিএ এর মধ্যে জমা দিবেন। তারপর সেখান থেকে আপনাকে একটি টোকেন নম্বর দেওয়া হবে। যেটি আপনাকে যত্ন সহকারে রেখে দিতে হবে। কেননা, এটি পরবর্তী সময়ে আপনার কাজে লাগবে। 

মোটরসাইকেলের ড্রাইভিং লাইসেন্স করার নিয়ম

আলোচনার শুরুতেই আমি আপনাকে বলেছি যে, কিভাবে ড্রাইভিং লাইসেন্স এর জন্য আবেদন করতে হয়। তো সেই আলোচনা টি যদি আপনার বুঝতে সমস্যা হয়। তাহলে আপনি নিচে দেখানো পদ্ধতি গুলো ফলো করুন। তাহলে আপনার মোটরসাইকেল ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে কোনো সমস্যা হবেনা। যেমন, 

নিয়ম-১ঃ লার্নার ড্রাইভিং লাইসেন্স এর জন্য আবেদন করুন

দেখুন, আপনি যদি মোটরসাইকেলের ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে চান। তাহলে প্রথমে আপনাকে লার্নার ড্রাইভিং লাইসেন্স এর জন্য আবেদন করতে হবে। আর আপনি চাইলে এখানে ক্লিক করে অনলাইনে উক্ত লাইসেন্স এর জন্য আবেদন করতে পারবেন। 

 

 

আপনি প্রথমে উপরের লিংকে ক্লিক করে লার্নার লাইসেন্স এর জন্য আবেদন করবেন। এরপর আপনাকে আরো বেশ কিছু কাজ করতে হবে। যেমন, 

 

  1. উক্ত লার্নার (শিক্ষানবিস) লাইসেন্স এর জন্য আপনাকে নির্ধারিত ফি প্রদান করতে হবে। 

  2. এরপর আপনাকে লিখিত পরীক্ষা দিতে হবে।

  3. মৌখিক পরীক্ষা দিতে হবে। 

  4. এছাড়াও আপনাকে ফিল্ড টেষ্ট করতে হবে। 

 

আর যখন আপনি উক্ত পরীক্ষা গুলোতে উত্তীর্ন হতে পারবেন। তারপর আপনাকে আপনার লার্নার ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদান করা হবে। এবং যখন আপনি এই লাইসেন্স পাবেন। তারপর আপনাকে চুড়ান্ত স্মার্টকার্ড ড্রাইভিং লাইসেন্স এর জন্য আবেদন করতে হবে। 

See also  IELTS ছাড়া বিদেশে উচ্চ শিক্ষার সেরা দেশসমূহ

নিয়ম-২ঃ স্মার্টকার্ড ড্রাইভিং লাইসেন্স এর জন্য আবেদন করুন

তো যখন আপনার সকল পরীক্ষা ও টেষ্ট দেওয়ার পর লার্নার ড্রাইভিং লাইসেন্স দেওয়া যাবে। তখন আপনি সেখানে একটি লাইসেন্স নম্বর দেখতে পারবেন। মূলত সেই লাইসেন্স নম্বর এর সাহায্য আপনাকে চুড়ান্ত স্মার্টকার্ড ড্রাইভিং লাইসেন্স এর জন্য আবেদন করতে হবে। 

 

আর এই স্মার্টকার্ড লাইসেন্স এর জন্য আপনার নিকট বেশ কিছু কাগজপত্র থাকতে হবে। যেগুলো নিয়ে উপরের আলোচনায় বিস্তারিত বলা হয়েছে। এবং এই আবেদন প্রক্রিয়া অনলাইনের মাধ্যমেও সম্পন্ন করতে পারবেন। 

 

এই আবেদন করার কাজ যখন শেষ হবে। তারপর আপনাকে আপনার ডিজিটাল ছবি ও আপনার ডিজিটাল স্বাক্ষর দিতে হবে। মূলত এগুলো দেওয়ার জন্য আপনি নিজেই সময় নির্ধারন করতে পারবেন। আর যখন আপনার এই যাবতীয় কাজ গুলো করা শেষ হবে। তারপর আপনি কবে আপনার স্মার্টকার্ড ড্রাইভিং লাইসেন্স পাবেন। সেটি আপনার মোবাইলের মেসেজে জানিয়ে দেওয়া হবে। 

মোটরসাইকেলের ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে কি যোগ্যতা লাগে?

হুমম, আপনি যদি এই ড্রাইভিং লাইসেন্স এর জন্য আবেদন করেন। তাহলে অবশ্যই আপনার নির্দিষ্ট যোগ্যতার দরকার হবে। আর বর্তমান সময়ে আপনার মধ্যে যে সকল যোগ্যতা থাকতে হবে। সেগুলো নিচের তালিকায় দেওয়া হলো। যেমন, 

 

  1. আপনার শিক্ষাগত যোগ্যতা কমপক্ষে ৮ম শ্রেনী পাস থাকতে হবে।

  2. অপেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্সের আবেদনের ন্যূনতম বয়স ১৮ বছর হতে হবে। 

  3. আর পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য বয়স কমপক্ষে ২০ বছর থাকতে হবে। 

  4. এছাড়াও আপনার কাছে লার্নার ড্রাইভিং লাইসেন্স থাকতে হবে। 

 

যদিওবা মোটরসাইকেল ড্রাইভিং লাইসেন্স করার জন্য খুব বেশি কিছুর দরকার হয়না। তবে অবশ্যই আপনার মধ্যে উপরোক্ত যোগ্যতা গুলো থাকতে হবে। তাহলে আপনি ড্রাইভিং লাইসেন্স এর জন্য আবেদন করতে পারবেন। 

মোটরসাইকেলের ড্রাইভিং লাইসেন্স ফি এর পরিমান কত?

যেহুতু আপনি ড্রাইভিং লাইসেন্স এর জন্য আবেদন করবেন। সেহুতু অবশ্যই আপনাকে বিআরটিএ এর নির্ধারিত ফি প্রদান করতে হবে। তো যারা আসলে জানতে চান যে, মোটরসাইকেলের ড্রাইভিং লাইসেন্স ফি এর পরিমান কত। তারা নিচের টেবিলে নজর দিন। 

See also  ইলেকট্রিক সামগ্রী তালিকা ও দাম

 

Motorcycle driving license fee (#Updated)

—লার্নার ড্রাইভিং লাইসেন্স এর জন্য প্রযোজ্য—

লাইসেন্স এর ধরন (মোটর সাইকেল)

ফি এর মোট পরিমান

মোটরসাইকেল ও হালকা মোটরযান (যে কোনো একটির জন্য)

৩৪৫ টাকা

মোটরসাইকেল ও যেকোনো একটি হালকা মোটরযান (এক সঙ্গে লাইসেন্স করলে)

৫১৮ টাকা

—স্মার্টকার্ড ড্রাইভিং লাইসেন্স এর জন্য প্রযোজ্য—

৫ বছরের নবায়ন ফি সহ পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স ফি

১৬৮০ টাকা

১০ বছরের নবায়ন ফি সহ অপেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স ফি

২৫৪২ টাকা

বাংলাদেশ থেকে কি আন্তর্জাতিক ড্রাইভিং লাইসেন্স এর আবেদন করা যায়?

আপনি চাইলে আমাদের বাংলাদেশ থেকেই আন্তর্জাতিক ড্রাইভিং লাইসেন্স এর জন্য আবেদন করতে পারবেন। তবে তার জন্য আপনার নিকট বেশ কিছু ডকুমেন্টস থাকতে হবে। যেমন, 

 

  1. স্মার্টকার্ড ড্রাইভিং লাইসেন্সের সত্যায়িত ফটোকপি,

  2. এক কপি পাসপোর্ট ও ৪ কপি স্ট্যাম্প সাইজ ছবি,

  3. পাসপোর্টের ১ থেকে ৪ নং পাতার ফটোকপি,

 

তো যদি আপনি আন্তর্জাতিক ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে চান। তাহলে আপনাকে উপরোক্ত ডকুমেন্টস গুলো সহো একটি আবেদন ফরম পূরণ করতে হবে। আর সেই আবেদন ফরম এর লিংক নিচে নিচে দেওয়া হলো। 

 

 

এরপর সেই আবেদন ও প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস গুলো অটোমোবাইল এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ অফিসে জমা দিতে হবে। সেই সাথে আপনি যখন আন্তর্জাতিক ড্রাইভিং লাইসেন্সের আবেদন ফি হিসেবে ২৫০০ টাকা দিবেন। তারপর আপনি কবে আপনার ড্রাইভিং লাইসেন্স পাবেন, তার সঠিক সময় জানিয়ে দেওয়া হবে। 

আপনার জন্য আমাদের শেষকথা

প্রিয় পাঠক, আজকে আমি আপনাকে মোটরসাইকেলের ড্রাইভিং লাইসেন্স করার নিয়ম গুলো সম্পর্কে জানিয়ে দিয়েছি। আশা করি, এই নিয়ম গুলো বুঝতে আপনার কোনো সমস্যা হবেনা। তো যদি আপনি এই ধরনের অজানা বিষয় গুলো সম্পর্কে জানতে চান। তাহলে Niruweb এর সাথে থাকবেন। 

 

আর ধন্যবাদ, এতক্ষন ধরে আমাদের সাথে থাকার জন্য। ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন। 

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *