লার্নার ড্রাইভিং লাইসেন্স আবেদন করার উপায়?

লার্নার ড্রাইভিং লাইসেন্স হলো বিশেষ এক ধরনের যানবাহন এর লাইসেন্স। যাকে বলা হয়, শিক্ষানবিস লাইসেন্স।

আর এই লাইসেন্স এর সাহায্য আপনি সরাসরি রাস্তায় কোনো যানবাহন চালাতে পারবেন না। তবে আপনার সাথে যদি একজন প্রশিক্ষক থাকে। তাহলে আপনি লার্নার ড্রাইভিং লাইসেন্স এর সাহায্য রাস্তায় গাড়ি চালাতে পারবেন।

 

লার্নার ড্রাইভিং লাইসেন্স আবেদন করার উপায়?

 

তবে এই লার্নার ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার জন্য আপনাকে কি কি করতে হবে। এবং তার জন্য আপনাকে কত টাকা ফি দিতে হবে। আজকের আর্টিকেলে উক্ত বিষয় গুলো বিষদভাবে আলোচনা করা হবে। তাই আর দেরী না করে চলুন, সরাসরি মূল আলোচনায় ফিরে যাওয়া যাক। 

লার্নার ড্রাইভিং লাইসেন্স কাকে বলে?  

সবার শুরুতে আমাদের জানতে হবে যে, লার্নার ড্রাইভিং লাইসেন্স কাকে বলে। কেননা, আপনি যখন এই বিষয়টি সম্পর্কে জানতে পারবেন। তখন আপনার পরবর্তী আলোচনা গুলো বুঝতে সুবিধা হবে। 

 

সাধারন ভাষায়, শিক্ষানবিস লাইসেন্স কে বলা হয়, লার্নার ড্রাইভিং লাইসেন্স। কেননা, একজন ব্যক্তি যখন ড্রাইভিং লাইসেন্স এর জন্য আবেদন করতে চায়। তখন সেই ব্যক্তিকে বিভিন্ন তথ্য দিয়ে একটি আবেদন ফরম পূরন করতে হয়। মূলত বিভিন্ন তথ্য সংবলিত এই আবেদন এর ফরম কে প্রাথমিক অবস্থায় লার্নার ড্রাইভিং লাইসেন্স বলা হয়। 

 

আর যখন আপনার কাছে লার্নার ড্রাইভিং লাইসেন্স থাকবে। তখন আপনি তার মাধ্যমে ড্রাইভিং লাইসেন্স এর জন্য আবেদন করতে পারবেন। আশা করি, লার্নার ড্রাইভিং লাইসেন্স কি, সেটি পরিস্কার ভাবে বুঝতে পেরেছেন। 

লার্নার ড্রাইভিং লাইসেন্স দিয়ে কি রাস্তায় গাড়ী চালাতে পারবো?

উপরের আলোচনায় বলেছি যে, লার্নার লাইসেন্স হলো শিক্ষানবিস লাইসেন্স। যার কারণে আপনি উক্ত লাইসেন্স এর সাহায্য রাস্তায় গাড়ী চালাতে পারবেন না। তবে আপনি যদি রাস্তায় কোনো যানবাহন চালাতে চান। তাহলে আপনার সাথে একজন প্রশিক্ষক থাকতে হবে। 

See also  সাংবিধানিক আইন কাকে বলে? বাংলাদেশ সংবিধান

 

যার অর্থ হলো, আপনি এখনও প্রশিক্ষনরত অবস্থায় আছেন। এবং একজন প্রশিক্ষক আপনাকে গাড়ি চালানো শেখাচ্ছে। কিন্তুু আপনি যদি একাকী লার্নার ড্রাইভিং লাইসেন্স দিয়ে গাড়ি চালাতে চান। তাহলে সেটা আইনের চোখে অপরাধ এর আওতায় পড়বে। 

কিভাবে লার্নার ড্রাইভিং লাইসেন্স আবেদন করবো?

বর্তমান সময়ে আপনি চাইলে নিজের ঘরে বসে লার্নার ড্রাইভিং লাইসেন্স এর জন্য আবেদন করতে পারবেন। তবে তার জন্য আমাদের সঠিক পদ্ধতি গুলো সম্পর্কে জানতে হবে। আর কিভাবে আপনি অনলাইনে লার্নার ড্রাইভিং লাইসেন্স আবেদন করবেন। সেই পদ্ধতি গুলো নিচে ধাপে দেখিয়ে দেওয়া হলো। 

লার্নার ড্রাইভিং লাইসেন্স আবেদন অনলাইন

যদি আপনি নিজের ঘরে বসে লার্নার ড্রাইভিং লাইসেন্স আবেদন অনলাইন এর করতে চান। তাহলে আপনি নিচে দেখানো পদ্ধতি গুলো ফলো করুন। যেমন, 

লার্নার ড্রাইভিং লাইসেন্স আবেদন করার উপায়?

 

  1. সবার প্রথমে আপনাকে বিআরটিএ এর ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে হবে।

  2. গুগলে “বিআরটিএ” লিখে সার্চ করুন নতুবা এখানে ক্লিক করেও উক্ত সাইটে প্রবেশ করতে পারবেন। 

  3. এবার আপনি সবার উপরে “নিবন্ধন করুন” নামক অপশন এর মধ্যে ক্লিক করুন। 

  4. তারপর আপনি উপরের পিকচারের মতো একটি পেজে প্রবেশ করবেন। 

  5. তো এখানে আপনাকে আপনার জন্ম তারিখ ও জাতীয় পরিচয় পত্র দিতে হবে। 

  6. সেই সাথে আপনার সচল মোবাইল নম্বর প্রদান করতে হবে। 

  7. সবশেষে এই তথ্য গুলো দিয়ে আপনাকে একটি একাউন্ট তৈরি করতে হবে। 

 

তো আপনি যখন উপরের পদ্ধতি গুলো ফলো করে একটি একাউন্ট তৈরি করবেন। তারপর আপনাকে পুনরায় আপনার একাউন্ট এর মধ্যে প্রবেশ করতে হবে। তারপর আপনাকে লার্নার ড্রাইভিং লাইসেন্স এর জন্য আবেদন করতে হবে। সেজন্য নিচে দেখানো পদ্ধতি গুলো ফলো করুন। যেমন, 

লার্নার ড্রাইভিং লাইসেন্স আবেদন করার উপায়?
 
  1. এবার আপনি বিআরটিএ ওয়েবসাইটে আবার চলে যাবেন। 

  2. তারপর সবার উপরে “প্রবেশ করুন” নামক অপশনে ক্লিক করবেন।

  3. এখন আপনি আপনার ইউজারনেম ও পাসওয়ার্ড দিয়ে লগ ইন করুন। 

  4. এবার আপনি “আবেদন” নামক একটি অপশন দেখতে পারবেন। আপনাকে সেখানে ক্লিক করতে হবে। 

  5. তারপর আপনি আসলে কোন ধরনের লাইসেন্স করতে চাচ্ছেন, সেটি সিলেক্ট করে দিন। 

  6. এবার আপনাকে বেশ কিছু তথ্য দিতে হবে। যেমন,  আপনার নাম, পিতার নাম, মাতার নাম, ঠিকানা ইত্যাদি।

  7. এর পরবর্তী ধাপে আপনাকে তাদের নির্দেশনা ফলো করতে হবে।

See also  ইলেকট্রিক সামগ্রী তালিকা ও দাম

 

তবে একটা কথা বলে রাখা ভালো যে, এখানে আপনি যেসকল তথ্য প্রদান করবেন। সেগুলো অবশ্যই আপনার জাতীয় পরিচয় পত্র এর সাথে মিল থাকতে হবে। কেননা, আপনি যদি ভুল তথ্য প্রদান করেন। তাহলে কিন্তুু আপনার লার্নার ড্রাইভিং লাইসেন্স আবেদন গ্রহনযোগ্য হবেনা। 

 

আর উক্ত আবেদন শেষে আপনাকে লিখিত, মৌখিক এবং ফিল্ড টেষ্ট এর নির্ধারিত সময় মেসেজে জানিয়ে দেওয়া হবে। তাই আপনাকে নিয়মিত মেসেজ চেক করে উক্ত পরীক্ষা গুলোতে অংশগ্রহন করতে হবে। সবশেষে উক্ত পরীক্ষায় উত্তীর্ন হওয়ার পর আপনি ড্রাইভিং লাইসেন্স এর জন্য আবেদন করতে পারবেন। 

লার্নার ড্রাইভিং লাইসেন্স ফি কত টাকা?

উপরের আলোচনা থেকে আমরা লার্নার ড্রাইভিং লাইসেন্স অনলাইন আবেদন করার উপায় গুলো সম্পর্কে জানলাম। তো এবার আমাদের জানতে হবে যে, লার্নার ড্রাইভিং লাইসেন্স ফি কত টাকা। তো বিআরটিএ এর অফিশিয়াল ওয়েবসাইট থেকে জানা গেছে। আপনাকে লার্নার ড্রাইভিং লাইসেন্স এর জন্য মোট দুইটি ক্যাটাগরিতে ফি পরিশোধ করতে হবে। যেমন, 

 

  1. ক্যাটাগরি-১ঃ ৩৪৫ টাকা (মোটরসাইকেল অথবা অন্যান্য হালকা মোটরযান এর জন্য) ।

  2. ক্যাটাগরি-২ঃ ৫১৮ টাকা (মোটরসাইকেল এবং হালকা মোটরযান একসাথে)।

 

আর এই লার্নার ড্রাইভিং লাইসেন্স ফি আপনাকে অনলাইনের মাধ্যমে পেমেন্ট করতে হবে। এছাড়াও আপনাকে অবশ্যই তাদের দেওয়া নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উক্ত ড্রাইভিং লাইসেন্স ফি পরিশোধ করে দিতে হবে। 

লার্নার ড্রাইভিং লাইসেন্স ফরম পূরন করতে কি কি লাগে?

এমন অনেক প্রয়োজনীয় তথ্য ও ডকুমেন্টস আছে। যেগুলো আপনার লার্নার ড্রাইভিং লাইসেন্স আবেদন করার সময় প্রয়োজন হবে। আর সেগুলো হলো, 

 

  1. রক্তের গ্রুপ পরীক্ষা করার সনদ,

  2. আপনার নিজের বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা,

  3. স্ট্যাম্প ও পাসপোর্ট সাইজের সদ্য তোল রঙ্গিন ছবি,

  4. লাইসেন্স ফি জমা দেয়ার প্রমানপএ.

  5. নিজের নাম (জাতীয় পরিচয় পত্র অনুযায়ী),

  6. আপনার পিতা ও মাতার নাম,

  7. আপনার নিজের জাতীয় পরিচয়পএ এর ফটোকপি,

  8. সরকারি / বে-সরকারি মেডিকেল হতে মেডিকেল সার্টিফিকেট,

See also  কানাডায় যেতে আইইএলটিএস স্কোর কত লাগে?

 

তো আপনি যে মেডিকেল সার্টিফিকেট গুলো সংগ্রহ করবেন। সেগুলো অবশ্যই রেজিষ্টার্ড ডক্টরের কাছ থেকে নিতে হবে। আর আপনি চাইলে লার্নার ড্রাইভিং লাইসেন্স এর জন্য মেডিকেল সার্টিফিকেট ফরম সংগ্রহ করতে চান। তাহলে এখানে ক্লিক করে উক্ত ফরম ডাউনলোড করতে পারবেন।  

লার্নার ড্রাইভিং লাইসেন্স ফরম পূরণ অনলাইন

সবার শুরুতেই বলেছি যে, আপনি যখন লার্নার ড্রাইভিং লাইসেন্স এর জন্য আবেদন করবেন। তখন আপনাকে একটি ফরম পূরণ করতে হবে। তো উক্ত ফরম টি আসলে দেখতে কেমন হবে। তার একটি নমুনা নিচের পিকচারে দেখানো হলো। যার মাধ্যমে আপনি সেই আবেদন ফরম সম্পর্কে আগে থেকেই ধারনা নিতে পারবেন। 

লার্নার ড্রাইভিং লাইসেন্স আবেদন করার উপায়?

 

তবে আপনি যদি উক্ত লার্নার ড্রাইভিং লাইসেন্স আবেদন ফরমটি ডাউনলোড করতে চান। তাহলে এখানে ক্লিক করলে সরাসরি এই নমুনা ফরম টি ডাউনলোড করে নিতে পারবেন। 

লার্নার ড্রাইভিং লাইসেন্স দিয়ে কি কি করা যায়?

যদি আপনার কাছে লার্নার ড্রাইভিং লাইসেন্স থাকে। তাহলে আপনি উক্ত লাইসেন্স এর মাধ্যমে রাস্তায় গাড়ি চালাতে পারবেন না। তবে যদি আপনার সাথে একজন রেজিষ্টার্ড প্রশিক্ষক থাকে। তাহলে আপনি শিক্ষানবিস হিসেবে গাড়ি চালাতে পারবেন। এর বাইরে উক্ত ড্রাইভিং লাইসেন্স আপনার কোনো কাজে আসবে না। 

শিক্ষানবিশ ড্রাইভিং লাইসেন্স কি?

লার্নার ড্রাইভিং লাইসেন্স কে সাধারনত শিক্ষানবিস লাইসেন্স বলা হয়। যেখানে আপনাকে ২/৩ মাস পর্যন্ত প্রশিক্ষন নিতে হবে। তারপর আপনার বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষা নেওয়া হবে। যেমন, লিখিত পরীক্ষা, মৌখিক পরীক্ষা, ফিল্ড পরীক্ষা ইত্যাদি। 

লার্নার করতে কত টাকা লাগে?

বর্তমান সময়ে যদি আপনি লার্নার ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে চান। তাহলে আপনার মোটরসাইকেল অথবা হালকা মোটরযান এর জন্য ৩৪৫ টাকা ফি দিতে হবে। আর মোটর সাইকেল ও যে কোনো হালকা মোটর যান এক সঙ্গে লাইসেন্স করলে ৫১৮ টাকা ফি দিতে হবে। 

ড্রাইভিং লাইসেন্স এর যাবতীয় ওয়েবসাইট লিংক

  1. বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষঃ Click Here

  2. বাংলাদেশ ফরমঃ Click Here.

  3. ড্রাইভিং লাইসেন্স উইকিপিডিয়াঃ Click Here

আপনার জন্য আমাদের কিছুকথা

আপনারা যারা লার্নার ড্রাইভিং লাইসেন্স অনলাইন আবেদন করতে চান। তারা আসলে কিভাবে আবেদন করতে পারবেন। আজকে সেই পদ্ধতি গুলো ধাপে ধাপে দেখিয়ে দেওয়া হয়েছে। 

 

সেইসাথে আজকে আমি লার্নার ড্রাইভিং লাইসেন্স সম্পর্কে এমন সব অজানা বিষয় শেয়ার করেছি। যে গুলো আপনার জেনে নেওয়াটা অতি প্রয়োজনীয়। 

 

তো আপনি যদি এই ধরনের অজানা তথ্য গুলো সহজ ভাষায় জানতে চান। তাহলে Niruweb এর  সাথে থাকবেন। ধন্যবাদ, ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন। 

 

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *