সাংবিধানিক আইন কাকে বলে? বাংলাদেশ সংবিধান

আমাদের মধ্যে এমন অনেক মানুষ আছেন। যারা আসলে জানতে চান যে, সাংবিধানিক আইন কাকে বলে। তো যদি আমি সাংবিধানিক আইন কি এই বিষয়টিকে সহজ ভাবে বোঝাতে চাই। তাহলে বলবো যে, নির্দিষ্ট কোনো একটি রাষ্ট্রকে সঠিক ভাবে পরিচালনা করার জন্য যে সকল আইন গঠন করা হয়। মূলত তাকেই বলা হয়, সাংবিধানিক আইন।  

 

আর এই সাংবিধানিক আইন এর মধ্যে বিভিন্ন বিষয় যুক্ত থাকে। যেমন, 

 

  1. নির্দিষ্ট একটি রাষ্ট্রের প্রকৃতি, 

  2. সেই রাষ্ট্রের যাবতীয় কার্যাবলি, 

  3. সরকার প্রধানের বিভিন্ন বিভাগের ক্ষমতা বল্টন, 

  4. রাষ্ট্রের মধ্যে থাকা সকল নাগরিক এর সম্পর্ক নির্ধারন, 

  5. সরকারের ধরন ইত্যাদি। 

 

তো এই যাবতীয় বিষয় ‍গুলোকে নিয়ে মূলত সাংবিধানিক আইন গঠিত হয়। আর সাংবিধানিক আইন হলো একটি দেশের সরকার সম্পর্কিত আইন এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত। এছাড়াও আমাদের জেনে রাখতে হবে যে, সাংবিধানিক আইন এর সাথে প্রশাসনিক আইন এর ব্যাপক পার্থক্য রয়েছে।

 

সাংবিধানিক আইন কাকে বলে?


Table of Contents

সাংবিধানিক ভাবে আইনের ব্যাখা প্রদান করে কে? 

উপরের আলোচনা থেকে আমরা জানতে পারলাম যে, সাংবিধানিক আইন কাকে বলে। তো এবার আমাদের জানতে হবে যে, সাংবিধানিক ভাবে আইনের ব্যাখা প্রদান করে কে। তো যারা আসলে এই বিষয় টি সম্পর্কে জানতে চান। তাদের বলবো যে, 

See also  নিকাশ ঘর কাকে বলে? কাজ ও প্রয়োজনীয়তা

 

সাংবিধানিক ভাবে আইনের ব্যাখা প্রদান করে শাসন বিভাগ। কেননা, আমাদের জেনে রাখা ভালো শাসন বিভাগ এর একটি বিভাগীয় শাখার কাছে আইন প্রণয়ন করার মতো ক্ষমতা আছে। আর শাসন বিভাগের ক্ষেত্রে এই আইনের ব্যাখা প্রদান করার কাজকে মৌলিক ক্ষমতা হিসেবে ধরা হয়। 

বাংলাদেশের আইন কত প্রকার ও কি কি?

আপনি কি জানেন, আমাদের বাংলাদেশের আইন কত প্রকার ও কি কি? – যদি আপনি এই বিষয়টি সম্পর্কে না জেনে থাকেন। তাহলে শুনুন, আমাদের বাংলাদেশের আইন কে প্রধানত ০২ টি ভাগে ভাগ করা হয়। আর সেগুলো হলো, 

 

  1. দেশীয় আইন এবং 

  2. আন্তর্জাতিক আইন।

 

মূলত আমাদের দেশের অভ্যন্তরে যে সকল আইন এর প্রণয়ন করা হয়েছে। সেগুলো কে বলা হয়, দেশীয় আইন। অপরদিকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ক্ষেত্রে যে সকল আইন গঠন করা হয়েছে। সেগুলো কে বলা হয়, আন্তর্জাতিক আইন। 

সংসদীয় সরকার বলতে কি বোঝায়?

বিভিন্ন সময় আমরা সংসদীয় সরকার নামক এই শব্দের সাথে পরিচিত হই। তো এর মানে হলো, সংসদীয় সরকার বিশেষ এক ধরনের রাজনৈতিক শাসন ব্যবস্থাকে বোঝানো হয়। 

 

যেখানে সেই রাষ্ট্রের সকল প্রকার ক্ষমতা সংসদের উপর নির্ভর করে। এবং উক্ত সংসদ কে সেই রাষ্ট্রের জনগন এর মাধ্যমে নির্বাচিত করা হয়। মূলত এই ধরনের শাসন ব্যবস্থা কে বলা হয়, সংসদীয় সরকার। আর উক্ত শাসন ব্যবস্থার মধ্যে প্রধানমন্ত্রী সরকার প্রধান এর দায়িত্ব পালন করেন। 

বাংলাদেশ সংবিধানের ৫ম সংশোধনী গৃহীত হয় কত সালে? 

আমরা সকলেই জানি যে, বাংলাদেশ সংবিধানের ৫ম সংশোধনী গৃহীত হয়েছিলো। আর এই সময় টি হলো, ১৯৭৯ সালের এপ্রিল মাসের ০৯ তারিখে। কিন্তুু এই বাংলাদেশ সংবিধানের ৫ম সংশোধনী এর জন্য ১৯৭৯ সালের এপ্রিল মাসের ০৬ তারিখে জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হয়েছিলো। 

See also  পুলিশ কনস্টেবল কোন শ্রেণীর কর্মকর্তা?

 

আর যে ব্যক্তি উক্ত সময়ে এই সংশোধনী উপস্থাপন করেছিলেন। সেই ব্যক্তির নাম হলো, শাহ আজিজুর রহমান। যিনি তৎকালীন সময়ে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন। আর তার হাত ধরেই ১৯৭৯ সালে বাংলাদেশের সংবিধানের ৫ম তম সংশোধনী কার্যক্রম শুরু হয়েছিলো। 

বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় নীতির মৌলিক অধিকার কি কি?

বাংলাদেশের সাংবিধানিক আইন সম্পর্কে বিভিন্ন বিষয় জানার পাশাপাশি। এবার আমাদের জানতে হবে যে, বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় নীতির মৌলিক অধিকার গুলো কি কি। তো বর্তমানে এমন অনেক মৌলিক অধিকার আছে। যেমন, 

 

  1. শুধুমাত্র ধর্ম, বর্ন, লিঙ্গ বা জন্ম স্থান এর ভিত্তিতে রাষ্ট্র কোনো নাগরিকের প্রতি বৈষম্য করতে পারবে না। 

  2. রাষ্ট্র ও জন জীবনের সবক্ষেত্রে নারী এবং পুরুষের সমান অধিকার থাকবে। 

  3. শুধুমাত্র ধর্ম, বর্ন, লিঙ্গের উপর ভিত্তি করে কোনো স্থানে প্রবেশের ক্ষেত্রে বাধা দান করা যাবেনা। কিংবা এই জাতীয় কোনো শর্ত আরোপ করা যাবেনা। 

 

তো উপরে আপনি যে সকল অধিকার দেখতে পাচ্ছেন। মূলত এগুলো হলো, বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় নীতির মৌলিক অধিকার। 

বাংলাদেশ সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর উদ্দেশ্যে কি ছিলো?

বাংলাদেশের সংবিধানের মধ্যে সর্ব প্রথশ সংশোধন করা হয়, ১৯৭৩ সালের জুলাই মাসের ১৫ তারিখে। আর উক্ত সংশোধনীর মূল উদ্দেশ্যে ছিলো, যুদ্ধপরাধী ও মানবতা বিরোধীদের উপযুক্ত বিচার প্রদান করা। তো পরবর্তী সময়ে এই সংশোধীত সংবিধান কে মান্য করে যুদ্ধপরাধীদের বিচার করা হয়েছে। 

বাংলাদেশ সংবিধানের সর্বশেষ সংশোধনী পাস হয় কত বছর আগে? 

অনেকেই জানতে চান যে, বাংলাদেশের সংবিধানের সর্বশেষ সংশোধনী কততম। তো তাদের বলে রাখি যে, আমাদের বাংলাদেশের সংবিধান এর সর্বশেষ সংশোধনী হলো ১৭ তম। আর এই সংশোধনী করা হয়েছে, ২০১৮ সালের জুলাই মাসের ০৮ তারিখে। আর এই সংশোধনী করা সময় জাতীয় সংসদ মোট ২৫ বছরের জন্য মোট ৫০ টি নারীদের আসন নিশ্চিত করেছেন। 

See also  মোটরসাইকেলের ড্রাইভিং লাইসেন্স করার নিয়ম

চতুর্থ সংশোধনীতে প্রধান বিষয় কি ছিলো?

২৫ জানুয়ারি, ১৯৭৫ সালে বাংলাদেশ সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনী গঠন করা হয়েছিলো। এবং উক্ত সংশোধনীর মধ্যে বাংলাদেশের সংসদীয় শাসন ব্যবস্থার পরিবর্তন করে। রাষ্ট্রপতি শাসন ব্যবস্থার প্রবর্তন করা হয়েছিলো। 

 

এছাড়াও বাংলাদেশ সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনী তে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী আজীবন প্রেসিডেন্ট পদে থাকার বিধান প্রবর্তন করেছিলো। সেই সাথে উক্ত সংশোধনীর মধ্যে রাষ্ট্রপতির হাতে সকল বিচারপতি নিয়োগ করা এবং অপরসারন করার মতো ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছিলো। 

বাংলাদেশের সংবিধানের মূলনীতি গুলো কি কি?

A: বাংলাদেশের সংবিধানের মূলনীতি গুলো হলো, বঙ্গবন্ধু ঘোষিত জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা। আর এই রাষ্ট্রীয় মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে সৃষ্ট তত্ত্বের নাম হয়, মুজিববাদ।

সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনী গৃহীত হয় কত সালে?

A: বাংলাদেশের সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনী ১৯৭৯ সালের ৬ এপ্রিলে জাতীয় সংসদে উত্থাপিত হয়। আর  ৯ এপ্রিলে বাংলাদেশের সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনী পাশ হয়।

রাষ্ট্র পরিচালনার মূল দলিলকে কি বলে?

A: রাষ্ট্র পরিচালনার মূল দলিলকে সংবিধান বলে। 

বাংলাদেশের সংবিধানে কয়টি ধারা আছে?

A: বাংলাদেশের সংবিধানের ১৫৩ টি অনুচ্ছেদ,এগারো (১১) টি অংশ এবং 4 টি তফসিল রয়েছে। 

বাংলাদেশের সংবিধানের জনক কে?

A: বাংলাদেশের সংবিধানের জনক এর নাম হলো, ড. কামাল হোসেন। 

খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটি কত তারিখে গঠিত হয়?

A: ১৯৭২ সালের ১১ এপ্রিল গণপরিষদের প্রথম অধিবেশনের দ্বিতীয় দিনে ৩৪ সদস্য বিশিষ্ট “খসড়া সংবিধান” প্রণয়ন কমিটি গঠিত হয়।

বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়ন কমিটির একমাত্র মহিলা সদস্য কে?

A: ১৯৭২ সালের ১১ এপ্রিল ড. কামাল হোসেনকে সভাপতি করে ৩৪ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটিতে একমাত্র নারী সদস্য ছিলেন রাজিয়া বানু।

আপনার জন্য আমাদের কিছুকথা

আজকের এই গুরুত্বপূর্ণ আর্টিকেলে আমি আপনাকে সাংবিধানিক আইন কাকে বলে সে সম্পর্কে বলেছি। এর পাশাপাশি বাংলাদেশ সংবিধান সম্পর্কে বিভিন্ন বিষয় শেয়ার করেছি। তো আশা করি, আজকের শেয়ার করা আর্টিকেল টি আপনার কাছে অনেক ভালো লেগেছে। 

 

তো আপনি যদি এই ধরনের অজানা বিষয় গুলো সহজ ভাষায় জানতে চান। তাহলে আমাদের সাথে থাকবেন। আর ধন্যবাদ, এতক্ষন ধরে আমাদের সাথে থাকার জন্য। ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন। 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *