জমির দাগ নম্বর ভুল হলে করনীয় কি?

যদি কখনও আপনি দেখতে পারেন যে, আপনার জমির দাগ নম্বর ভুল আছে। তাহলে আপনি অতি দ্রুত একটি মামলা করবেন। মূলত এই ধরনের মামলা গুলো প্রায় ০৩ বছর পর্যন্ত স্থায়ী থাকতে পারে। উক্ত সময় শেষে সেই মামলা তামাদির দ্বারা বাতিল হয়ে যায়।

কিন্তুু ০৩ বছর পরও যদি আপনি কোনো ধরনের রায় না পান, তাহলে আপনি কি করবেন?

হুমম, সেজন্য আপনাকে আরো বেশ কিছু কাজ করতে হবে। আর সেই কাজ গুলো নিয়ে এবার আমি বিস্তারিত আলোচনা করবো।

 

জমির দাগ নম্বর ভুল হলে করনীয় কি?

জমির দাগ নম্বর বলতে কি বোঝায়?

সহজ কথায় বলতে গেলে, জমির দাগ নম্বর হলো নির্দিষ্ট একটি ভূমির পরিমাপকৃত অংশ বা ভাগকে সনাক্ত করার জন্য প্রদত্ত একটি সংখ্যা বা চিহ্নকে বোঝানো হয়। 
 
কেননা, যখন জরিপ ম্যাপ প্রস্তুত করা হয়। তখন মৌজা নক্সায় ভূমির সীমানা সনাক্ত করার জন্য প্রত্যেক টি ভূমি খন্ডকে আলাদা আলাদ দাগ নম্বর দেয়া হয়।
 
আর একেই বলা হয়ে থাকে, জমির দাগ নম্বর। তো এই জমির দাগ নম্বরকে আবার দুইটি ভাগে ভাগ করা হয়। যেমন, 
  1. মৌজার নাম, 
  2. ভূমি খন্ডের ক্রম নম্বর,
তো আশা করি, জমির দাগ নম্বর কাকে বলে। সে সম্পর্কে আপনি সঠিক ধারনা পেয়ে গেছেন। 

জমির দাগ নম্বর ভুল হলে করনীয় কি?

সবার শুরুতেই আমি আপনাকে একটা কথা বলেছি। সেটি হলো, জমির দাগ নম্বর ভুল হলে প্রথমত আপনাকে মামলা করতে হবে। যে মামলা প্রায় ০৩ বছর অবধি চলমান থাকবে। আর এই ০৩ বছরের মধ্যে সেই মামলার তামাদির দ্বারা বাতিল হয়ে যাবে। 
 
কিন্তুু কোনো কারণে যদি আপনার সংশোধনী মামলা বাতিল হয়ে না যায়। তাহলে আপনাকে ভিন্ন পন্থা অনুসরন করতে হবে। 
 
সেটি হলো, এরপর  আপনাকে আবার দেওয়ানি আদালতে ঘোষণা মূলক মামলা করতে হবে। আর যখন আপনি দেওয়ানি আদালতে ঘোষনামূলক মামলা করবেন। তারপর আপনাকে আরো বেশ কিছু কাজ করতে হবে। যেমন, 
  1. আপনাকে আদালত এর রায়ের কপি সংশ্লিষ্ট সাব রেজিস্ট্রারের কাছে পাঠাতে হবে। 
  2. তারপর সাব রেজিস্ট্রার উক্ত রায়ের আলোকে ভলিউম সংশোধন করে দিবে।
See also  নিকাশ ঘর কাকে বলে? কাজ ও প্রয়োজনীয়তা
তবে বলে রাখা ভালো যে, ভ্রম সংশোধন দলিল করেও আগে সম্পাদিত দলিলের ভুল সংশোধন করা যায়। তো জমির দাগ নম্বর ভুল হলে আপনার করনীয় কি হবে। আশা করি, সেটি আপনি পরিস্কার ভাবে বুঝতে পেরেছেন। 
 

বিশেষ বার্তাঃ জমির ভুল দাগ নম্বর সংক্রান্ত আরো তথ্য পেতে ( lawyers club bangladesh) ওয়েবসাইটে ভিজিট করুন।

হাল দাগ মানে কি?

আমাদের মধ্যে এমন অনেক মানুষ আছেন। যারা আসলে জানতে চান যে, হাল দাগ মানে কি। তো সহজ কথায় বলতে গেলে, হাল দাগ হলো ভূমি জরিপের সর্বশেষ আপডেট অনুযায়ী প্রদান করা দাগ নম্বর। 

কেননা, যখন নির্দিষ্ট কোন এলাকায় নতুন করে জরিপ করা হয়। তখন পূর্বের দাগ নম্বর পরিবর্তন করে নতুন দাগ নম্বর প্রদান করা হয়। মূলত এই নতুন দাগ নম্বর কে হাল দাগ বলা হয়।

হাল রেকর্ড কি?

উপরের আলোচনা থেকে আমরা জানতে পারলাম যে, হাল দাগ মানে কি। তো এর পাশাপাশি আমাদের আরো একটি বিষয় জানতে হবে। সেটি হলো, হাল রেকর্ড কি। 
 
তো হাল রেকর্ড হলো, জমির সর্বশেষ জরিপের তথ্য সংবলিত এক ধরনের রেকর্ড। আর উক্ত রেকর্ড এর মধ্যে নির্দিষ্ট কোনো জমির দাগ নম্বর, মালিকানা, সীমানা, আয়তন, খাজনা, ইত্যাদি তথ্য থাকে।

মোং দাগ কি?

আমরা অনেকেই জানিনা যে, মোং দাগ কাকে বলে। তো যারা এই বিষয়টি সম্পর্কে জানেন না, তারা শুনে রাখুন,  
 
মোং দাগ হলো জমির দাগ নম্বরের একটি পূর্ববর্তী ব্যবস্থা। আর এই ব্যবস্থা টি প্রায় ১৯৬২ সালে জমিদারি উচ্ছেদ ও প্রজাস্বত্ব আইনের অধীনে প্রচলিত ছিলো। এই ব্যবস্থায়, নির্দিষ্ট কোনো একটি জমি কে বিভিন্ন আকারের দাগে বিভক্ত করা হয়েছিল।
 
তবে জেনে রাখা ভালো যে, মোং দাগ সাধারণত দুটি অংশে বিভক্ত। আর সেগুলো হলো, 
  1. মৌজার নাম,
  2. দাগের ক্রম নম্বর,
See also  স্নাতক ও স্নাতকোত্তর কি? (বিস্তারিত জানুন)
তবে মোং দাগ নামক এই ব্যবস্থাটি বর্তমানে আমাদের বাংলাদেশে ব্যবহৃত হয় না। ১৯৯০ সালের জমি রেকর্ড ও জরিপ আইনের অধীনে হাল দাগ ব্যবস্থা চালু হয়। এর প্রধান কারণ হলো, হাল দাগ ব্যবস্থা মোং দাগ ব্যবস্থার চেয়ে অধিক উন্নত।

আপনার জন্য আমাদের কিছুকথা

প্রিয় পাঠক, যদি কোনো কারণে আপনার জমির দাগ নম্বর ভুল হয়। তখন আপনার কি কি কাজ করা উচিত। আজকের আলোচনায় সেই বিষয় গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। 
 
তবে এরপরও যদি আপনার মনে কোনো ধরনের প্রশ্ন থাকে। তাহলে অবশ্যই নিচে কমেন্ট করে জানিয়ে দিবেন। 
 
আর এমন ধরনের অজানা বিষয় গুলো সহজ ভাষায় জানতে আমাদের সাথে থাকবেন। ধন্যবাদ, ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *