বাংলাদেশ থেকে পর্তুগাল যাওয়ার সহজ নিয়ম

আপনারা যারা আমাদের বাংলাদেশ থেকে পর্তুগাল যেতে চান। তাদের জন্য আজকের আর্টিকেল টি অনেক হেল্পফুল হবে। 

 

কেননা, আজকে আমি আপনাকে বাংলাদেশ থেকে পর্তুগাল যাওয়ার সকল নিয়ম গুলো ধাপে ধাপে দেখিয়ে দেওয়ার চেস্টা করবো। 


বাংলাদেশ থেকে পর্তুগাল যাওয়ার সহজ নিয়ম

বাংলাদেশ থেকে পর্তুগাল যাওয়া যায়?

হ্যাঁ, আপনি যদি একজন বাংলাদেশের নাগরিক হয়ে থাকেন। তাহলে আপনি বিভিন্ন ভিসার মাধ্যমে পর্তুগাল যেতে পারবেন। 

 

তবে পর্তুগাল যেতে হলে অবশ্যই আপনার প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস দিয়ে ভিসা আবেদন করতে হবে। 

কোন কোন ভিসায় বাংলাদেশ থেকে পর্তুগাল যাওয়া যায়?

বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের নাগরিকরা বিভিন্ন ভিসার মাধ্যমে পর্তুগালে যেতে পারবেন। আর সেগুলো হলো, 

 

  1. পর্যটক ভিসাঃ এই ভিসায় আপনি পর্তুগালে মোট ৯০ দিন ভ্রমণ করতে পারবেন।

  2. ব্যবসায়িক ভিসাঃ পর্তুগালে ব্যবসায়িক কারণে ভ্রমণ করতে পারবেন।

  3. শিক্ষার্থী ভিসাঃ পর্তুগালে পড়াশোনা করার সুযোগ পাবেন।

  4. কাজের ভিসাঃ পর্তুগালে চাকরি/কাজ করতে পারবেন।

  5. স্থায়ী বসবাসের ভিসাঃ এই ভিসায় আপনি পর্তুগালে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে পারবেন।

 

তো আপনি আমাদের বাংলাদেশ থেকে যে সকল ভিসায় পর্তুগাল যেতে পারবেন। সেগুলো উপরে উল্লেখ করা হয়েছে। 

কিভাবে পর্তুগাল ভিসার জন্য আবেদন করবেন?

আপনি বেশ কিছু পদ্ধতি ফলো করে পর্তুগাল ভিসার জন্য আবেদন করতে পারবেন। যেমন, 

 

  1. প্রথমে আপনাকে পর্তুগাল দূতাবাস বা কনস্যুলেটের ওয়েবসাইটে যেতে হবে। 

  2. তারপর ভিসা আবেদন ফর্ম ডাউনলোড করতে হবে।

  3. এবার আপনাকে ভিসা আবেদন ফর্মটি পূরণ করতে হবে। 

  4. তারপর প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস জমা দিবেন।

  5. এরপর আপনি ভিসা ফি প্রদান করবেন।

  6. সবশেষে আপনাকে আপনার ভিসার আবেদন জমা দিতে হবে।

See also  ডিজিটাল মার্কেটিং A to Z (বাংলা টিউটোরিয়াল)

 

যখন আপনি উপরোক্ত কাজ গুলো করবেন। তারপর আপনার ভিসা আবেদন প্রসেসিং করা হবে।  

 

আর যখন এই কাজ সম্পন্ন হবে। তখন আপনি আপনার ভিসা হাতে পাবেন। আর উক্ত ভিসায় বাংলাদেশ থেকে পর্তুগাল যেতে পারবেন। 

বাংলাদেশে কি পর্তুগাল এম্বাসি আছে?

হ্যাঁ, বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় পর্তুগাল এর এম্বাসি আছে। আপনি চাইলে অনলাইন এর মাধ্যমে পর্তুগাল এম্বাসির সাথে যোগাযোগ করতে পারবেন। 

 

তো বাংলাদেশের পর্তুগাল এম্বাসির ঠিকানা হলোঃ  House-19b Rd 117, Dhaka 1212

 

আর আপনি যদি তাদের অনলাইন ওয়েসাইট সম্পর্কে জানতে চান। তাহলে এই লিংকে (lisbon mofa gov bd) ক্লিক করুন। 

পর্তুগাল ভিসার (ফি) খরচ কত?

পর্তুগাল ভিসার জন্য আপনার কত খরচ করতে হবে। সেটা মূলত নির্ভর করবে আপনার ভিসার ধরন এর উপর। যেমন, 

 

  1. পর্যটক ভিসাঃ ৬০ ইউরো,

  2. ব্যবসায়িক ভিসাঃ ৬০ ইউরো,

  3. শিক্ষার্থী ভিসাঃ ৬০ ইউরো,

  4. কাজের ভিসাঃ ১২০ ইউরো,

  5. স্থায়ী বসবাসের ভিসাঃ ৩৫০ ইউরো,

 

উপরের তালিকা তে আপনি বর্তমান সময়ের পর্তুগাল ভিসা ফি দেখতে পাচ্ছেন। আর বাংলাদেশ থেকে পর্তুগাল যেতে আপনার এই পরিমান ভিসার খরচ হবে। 

পর্তুগাল ভিসার জন্য কি কি ডকুমেন্টস লাগে?

আপনি যখন পর্তুগাল ভিসার আবেদন করবেন। তখন আপনার ভিসার ধরন হিসেবে ভিন্ন ভিন্ন ডকুমেন্ট এর দরকার হবে। 

 

কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে যে সব ডকুমেন্টস এর দরকার হয়। সেগুলোর তালিকা নিচে প্রদান করা হলো। যেমন, 

 

  1. সঠিক ভাবে পূরণ করা ভিসা আবেদন ফর্ম।

  2. বৈধ পাসপোর্ট যার মেয়াদ কমপক্ষে ০৬ মাস।

  3. সদ্যা তোলা ০২ কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি।

  4. একটি ব্যাংক স্টেটমেন্ট। 

  5. কাজের জন্য পর্তুগালে গেলে, চাকরি অফার লেটার।

  6. পড়াশোনা করার জন্য পর্তুগালে গেলে, ভর্তি অফার লেটার।

 

এগুলো ছাড়াও ভিসা ভেদে আরো বিভিন্ন ধরনের ডকুমেন্টস এর প্রয়োজন হতে পারে। 

See also  বাংলাদেশ থেকে আমেরিকা যাওয়ার উপায়

বাংলাদেশ থেকে পর্তুগালে কি কি কাজ পাওয়া যায়?

যদি আপনি একজন বাংলাদেশি হয়ে পর্তুগালে কাজ করার জন্য যেতে পারেন। তাহলে আপনি সেখানে বিভিন্ন সেক্টরে কাজ করতে পারবেন। যেমন, 

 

  1. হোটেল, রেস্তোরাঁ, রিসর্ট, ট্যুর অপারেটর হিসেবে। 

  2. ডাক্তার, নার্স, ফার্মাসিস্ট, থেরাপিস্ট এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবা কাজ।

  3. শিক্ষক, গবেষক, প্রশাসনিক কর্মকর্তার কাজ। 

  4. সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার, হার্ডওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার, ডেটা সায়েন্টিস্ট এর কাজ। 

 

তবে আপনি যদি পর্তুগালে উপরোক্ত কাজ গুলো করতে চান। তাহলে অবশ্যই আপনার দক্ষতার প্রয়োজন হবে। 

পর্তুগালে কোন কাজের চাহিদা বেশি?

এমন অনেক কাজ আছে, পর্তুগালে যে কাজ গুলোর ব্যাপক চাহিদা আছে। আর সেই চাহিদা সম্পন্ন কাজ গুলো হলো, 

 

  1. শিক্ষক, গবেষক, প্রশাসনিক কর্মকর্তা।

  2. প্রকৌশলী, উৎপাদন শ্রমিক।

  3. হোটেল, রেস্তোরাঁ, রিসোর্ট। 

  4. হার্ডওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার, ডেটা সায়েন্টিস্ট, বিপণনকারী। 

  5. নার্স, ফার্মাসিস্ট, থেরাপিস্ট। 

 

বর্তমান সময়ে পর্তুগালে উপরোক্ত সেক্টরের কাজের অনেক চাহিদা আছে। যে কাজ গুলোতে অনেক বেশি বেতন প্রদান করা হয়। 

পর্তুগালে কাজের বেতন কেমন?

সত্যি বলতে পর্তুগালে বিভিন্ন বিষয়ের উপর কাজের বেতন নির্ভর করে। যেমন, আপনার কাজের ধরন, শিক্ষাগত যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা এবং কাজের অবস্থান। 

 

তবে, একটা কথা জেনে রাখুন। সেটি হলো, পর্তুগালের কাজের বেতন ইউরোপের অন্যান্য দেশের তুলনায় কম।

 

কেননা, পর্তুগালে একজন কর্মচারীর গড় মাসিক বেতন প্রায় 1,000 ইউরো থেকে 5,000 ইউরো হয়। আর এই বেতন আপনার কাজের উপর নির্ভর করবে।

 

আর পর্তুগালে কাজের বেতন সাধারণত মাসিক বেতন হিসাবে প্রদান করা হয়। তবে, কিছু কিছু কোম্পানি আছে। যারা বছরে একবার বা দুইবার বোনাস প্রদান করে।

পর্তুগালের কোন কাজের বেতন বেশি?

পর্তুগালে সবচেয়ে বেশি বেতন পাওয়া যায় এমন কিছু কাজের তালিকা নিচে প্রদান করা হলো। যেমন,

 

  1. ডাক্তারঃ  মাসিক বেতন প্রায় 5,000 ইউরো।

  2. নার্স: মাসিক বেতন প্রায় 3,000 ইউরো।

  3. শিক্ষক: মাসিক বেতন প্রায় 2,000 ইউরো।

  4. প্রযুক্তি পেশাদার: মাসিক বেতন প্রায় 4,000 ইউরো।

  5. ব্যবসায়িক পেশাদার: মাসিক বেতন প্রায় 3,000 ইউরো।

See also  ডিজিটাল মার্কেটিং এর বর্তমান অবস্থা কেমন?

 

তবে এই কাজ গুলো ছাড়াও পর্তুগালে আরও অনেক কাজ আছে। যে কাজ গুলোতে খুব ভাল বেতন দেওয়া হয়। 

বাংলাদেশ থেকে পর্তুগালের বিমান ভাড়া কত?

সাধারণভাবে, বাংলাদেশ থেকে পর্তুগালের বিমান ভাড়া প্রায় 1,000 থেকে 1,500 ডলার।

 

তবে আপনি যদি সস্তায় পর্তুগালে যেতে চান। তাহলে আপনি সরাসরি ফ্লাইট না করে অন্য কোনো দেশ থেকে পর্তুগাল যাওয়ার চেষ্টা করবেন। 

 

যেমন, সবার প্রথমে আপনি  ইতালি বা ফ্রান্সের ফ্লাইটে যাবেন। তারপর সেখান থেকে পর্তুগালে যাবেন। তাহলে আপনার বিমান ভাড়া কিছুটা কম হবে।

আপনার জন্য আমাদের কিছুকথা

আজকের আর্টিকেলে পর্তুগাল যাওয়ার নিয়ম গুলো কে ধাপে ধাপে দেখিয়ে দেওয়া হয়েছে। 

 

আশা করি, আপনি এই নিয়ম গুলো সম্পর্কে পরিস্কার ধারনা নিতে পেরেছেন। 

 

তবে এরপরও কোনো সমস্যা হলে কমেন্ট করে জানিয়ে দিবেন। ধন্যবাদ, ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন। 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *