জার্মানিতে কোন কাজের চাহিদা বেশি?

যদি আপনি ওয়ার্ক পারমিট ভিসায় আমাদের বাংলাদেশ থেকে জার্মানিতে যেতে চান। তাহলে সবার আগে আপনাকে জানতে হবে যে, জার্মানিতে কোন কাজের চাহিদা বেশি। 

কারণ, যখন আপনি জার্মানির চাহিদা সম্পন্ন কাজ গুলো সম্পর্কে জানতে পারবেন। তখন আপনি আগে থেকেই নিজেকে সেই কাজ গুলোতে দক্ষ হিসেবে গড়ে তুলতে পারবেন। যার ফলে আপনার দক্ষতার উপর ভিত্তি করে জার্মানি ওয়ার্ক পারমিট ভিসা পেতে সুবিধা হবে। 

 

জার্মানিতে কোন কাজের চাহিদা বেশি?

জার্মানিতে কোন কাজের চাহিদা বেশি?

সত্যি বলতে একটি দেশের মধ্যে বিভিন্ন কাজের চাহিদা থাকে। আর বর্তমান সময়ে জার্মানিতে অনেক কাজের যথেষ্ট পরিমান চাহিদা আছে। তো উক্ত চাহিদা সম্পন্ন কাজ গুলোর তালিকা নিচে প্রদান করা হলো। যেমন, 
 
  1. মেকানিক্যাল টেকনিশিয়ান
  2. ইলেকট্রিক্যাল টেকনিশিয়ান
  3. সফ্টওয়্যার ডেভেলপার
  4. ইঞ্জিনিয়ার (মেকানিক্যাল, ইলেকট্রনিক, সিভিল, ইত্যাদি)
  5. ডাটা সায়েন্টিস্ট
  6. সাইবার সিকিউরিটি বিশেষজ্ঞ
  7. নার্স
  8. ডাক্তার
  9. বিক্রয় প্রতিনিধি
মূলত উপরের তালিকায় যেসব কাজের নাম দেখতে পাচ্ছেন। জার্মানিতে বর্তমান সময়ে এই কাজ গুলোর যথেষ্ট পরিমান চাহিদা আছে। আর যদি আপনার উক্ত কাজে দক্ষতা থাকে। তাহলে আপনিও জার্মানি ওয়ার্ক পারমিট এর জন্য আবেদন করতে পারবেন।

জার্মানিতে ইঞ্জিনিয়ারদের কি চাহিদা আছে কি?

সত্যি বলতে বর্তমান সময়ে জার্মানিতে ইঞ্জিনিয়ারদের ব্যাপক পরিমান চাহিদা আছে। কেননা, যদি আপনি একজন যান্ত্রিক ইঞ্জিনিয়ার কিংবা প্রযুক্তি এবং বৈদ্যুতিক ইঞ্জিনিয়ার হতে পারেন। তাহলে আপনি জার্মানিতে কাজের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য পাবেন। 
 
আর এই দেশে ইঞ্জিনিয়ার এর চাকরি করার বিনিময়ে আপনি অনেক ভালো বেতনের সুবিধা ভোগ করতে পারবেন। তবে এই বেতন সুবিধা পেতে হলে আপনাকে অবশ্যই একজন দক্ষ ইঞ্জিনিয়ার হতে হবে।

জার্মানিতে সর্বনিম্ন বেতন কত?

যদি আপনি বিশ্বের অন্যান্য উন্নত দেশ গুলোর সাথে জার্মানির কাজের বেতনের তুলনা করেন। তাহলে আপনি দেখতে পারবেন যে, জার্মানিতে কাজের সর্বনিন্ম বেতনের পরিমান অনেক বেশি। কেননা, বর্তমান সময়ে জার্মানিতে প্রতি ঘন্টায় সর্বনিন্ম কাজের বেতন প্রতি ঘন্টায় ৯.৫০ ইউরো দেওয়া হয়। 
 
যা আমাদের বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ১,০২৫ টাকার সমান। আর উক্ত কাজের বেতনের আইনটি ২০২৩ সাল থেকে কার্যকর করা হয়েছে। অর্থাৎ আপনি জার্মানিতে যেকোনো ধরনের কাজ করুন না কেন। আপনাকে ঘন্টা হিসেবে সর্বনিন্ম বেতন ৯.৫০ ইউরো দিবে।

জার্মানিতে যেতে কত টাকা লাগবে?

মূলত আপনার জার্মানি যেতে মোট কত টাকা খরচ হবে, সেটি আপনার ভিসার ধরনের উপর নির্ভর করবে। কেননা, আপনি যদি পড়াশোনার ভিসায় জার্মানি যান, তাহলে আপনার যে পরিমান টাকা খরচ হবে। তার থেকে কয়েক গুন বেশি টাকা দিয়ে আপনাকে জার্মানি ওয়ার্ক পারমিট ভিসায় যেতে হবে। 
 
তবে আপনারা যারা আমাদের বাংলাদেশ থেকে ওয়ার্ক পারমিট ভিসায় জার্মানি যাবেন। তাদের সব মিলিয়ে মোট ১১ থেকে ১২ লাখ টাকা খরচ হবে। আর যারা উচ্চশিক্ষার জন্য জার্মানি যাবেন, তাদের মোট ০৭ লাখ থেকে ০৮ লাখ টাকার মতো খরচ হবে। 
 
কিন্তুু আপনারা যারা ভ্রমন করার জন্য জার্মানি যেতে চান। তাদের জন্য খুব কম টাকা খরচ করতে হবে। কেননা, বর্তমানে আপনি মোট ৫ লাখ থেকে ৬ লাখ টাকা দিয়ে জার্মানিতে ভ্রমন করার জন্য যেতে পারবেন। তবে যদি আপনি এজেন্সির মাধ্যমে জার্মানি যান, তাহলে আপনার আরো বেশি টাকা খরচ করতে হবে। 

জার্মান জব ভিসার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

চলমান সময়ে আমাদের বাংলাদেশ থেকে অধিকাংশ মানুষ ওয়ার্ক পারমিট ভিসার মাধ্যমে জার্মানি যায়। আর আপনিও যদি জার্মানি যাওয়ার জন্য ওয়ার্ক পারমিট ভিসার আবেদন করেন। তাহলে আপনার নিকট যেসব কাগজপত্র থাকতে হবে, সেগুলো নিচের তালিকায় উল্লেখ করা হলো,
 
  1. সর্বনিন্ম ০৩ মাস মেয়াদের একটি বৈধ পাসপোর্ট থাকতে হবে। 
  2. একটি আবেদন ফরম থাকতে হবে। 
  3. সদ্য তোলা পাসপোর্ট সাইজের ছবি। 
  4. শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ কপি। 
  5. কাজের অভিজ্ঞতার প্রমানপত্র। 
  6. জার্মান চাকরির অফার লেটার। 
  7. জার্মান ভাষা দক্ষতার প্রমান পত্র (যদি প্রয়োজন হয়)।
  8. স্বাস্থ্য পরীক্ষার মেডিকেল সার্টিফিকেট। 
See also  ফ্রিল্যান্সিং এর কোন কাজের চাহিদা বেশি?
উপরের তালিকায় আপনি যেসব কাগজপত্র এর নাম দেখতে পাচ্ছেন। মূলত জার্মান ওয়ার্ক পারমিট ভিসার আবেদন করার সময় এই কাগজপত্র গুলোর দরকার হবে। তবে বলে রাখা ভালো যে, আপনাকে যে কোম্পানি নিয়োগ দিবে। তাদের চাহিদা অনুযায়ী আরো অন্যান্য কাগজপত্রের প্রয়োজন হতে পারে।

জার্মানিতে মাসিক খরচ কত হবে?

আপনার ক্ষেত্রে জার্মানিতে থাকার খরচ নির্ভর করবে, আপনি সেখানে কতটা বিলাসবহুল জীবনযাপন করবেন তার উপর। তবে স্বাভাবিক ভাবে জার্মানিতে বসবাস করা একজন ব্যক্তির প্রতি মাসে 600-650 ইউরো খরচ করার প্রয়োজন পড়বে। 
 
কিন্তুু রান্নাঘরের খরচ, পরিবহন, যোগাযোগ এবং অন্যান্য খরচ মিলে আপনাকে আরো 1584 ইউরোর মতো খরচ করতে হবে। তবে আপনি চাইলে আপনার ব্যয়ের পরিমান কমিয়ে এর থেকেও কম খরচে জার্মানিতে বসবাস করতে পারবেন।

আপনার জন্য আমাদের কিছুকথা

জার্মানিতে কোন কাজের চাহিদা বেশি সেই কাজগুলো নিয়ে আজকে বিস্তারিত বলা হয়েছে। এছাড়াও জার্মানি সম্পর্কে এমন কিছু তথ্য শেয়ার করা হয়েছে, যেগুলো আপনার জেনে রাখা দরকার। 
 
তো আপনি যদি জার্মানি ওয়ার্ক পারমিট ভিসা সম্পর্কে কিছু জানতে চান। তাহলে নিচে কমেন্ট করবেন। ধন্যবাদ, ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *