পর্তুগাল ওয়ার্ক পারমিট ভিসা অনলাইন আবেদন

বর্তমান সময়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষের পর্তুগাল ওয়ার্ক পারমিট ভিসায় যাওয়ার আগ্রহ তৈরি হয়েছে। কেননা, অন্যান্য দেশের তুলনায় পর্তুগালে কাজের বেশি বেতন পাওয়া যায়। অপরদিকে পর্তুগালে কাজ করার ক্ষেত্রেও বিভিন্ন ধরনের সুযোগ সুবিধা পাওয়া যায়।

তবে যদি আপনি আপনার দেশ থেকে ওয়ার্ক পারমিট ভিসায় পর্তুগাল যেতে চান। তাহলে আপনাকে জানতে হবে যে, কিভাবে অনলাইন থেকে পর্তুগাল কাজের ভিসার জন্য আবেদন করবেন। আর আজকে আমি আপনাকে এই বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত বলবো।

পর্তুগাল ওয়ার্ক পারমিট ভিসা অনলাইন আবেদন

পর্তুগাল ওয়ার্ক পারমিট ভিসা কি?

সহজ কথায় বলতে গেলে, পর্তুগাল ওয়ার্ক পারমিট ভিসা হলো এমন এক ধরনের ভিসা। যার মাধ্যমে আপনি বিদেশি নাগরিক হওয়ার পরও পর্তুগালে কাজ করার অনুমতি পাবেন। আর যখন আপনার কাছে একটি পর্তুগাল ওয়ার্ক পারমিট ভিসা থাকবে। তখন আপনি সেই দেশের মধ্যে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত কাজ করার অনুমতি পাবেন।

কিন্তুু সব ধরনের মানুষকে পর্তুগাল ওয়ার্ক পারমিট প্রদান করা হয়না। কারণ, পর্তুগাল সরকার এই ভিসা শুধুমাত্র তাদের প্রদান করবে, যারা পর্তুগালে কাজ করার জন্য যোগ্য। এছাড়াও যোগ্যতা সম্পন্ন একজন ব্যক্তিকে ওয়ার্ক পারমিট ভিসার জন্য সঠিক ভাবে আবেদন করতে হবে।

পর্তুগাল ওয়ার্ক পারমিট ভিসা কত প্রকার?

শুনুন, আপনি ওয়ার্ক পারমিট ভিসায় পর্তুগালে কাজ করার অনুমতি পাবেন। তবে পর্তুগালের ওয়ার্ক পারমিট ভিসাকে আরো বেশ কয়েকটি ভাগ ভাগ করা হয়েছে। আর সেই ওয়ার্ক পারমিট ভিসার সকল প্রকারভেদ সম্পর্কে আমাদের জেনে নেওয়া দরকার। যেমন,

01 – Work Visa for Skilled Workers

যদি আপনার পর্তুগালের কোনো কোম্পানি থেকে জব অফার থাকে। তাহলে আপনি Work Visa for Skilled Workers ভিসার জন্য আবেদন করতে পারবেন। আর উক্ত জব অফার আপনি যেকোনো কাজের জন্য পেতে পারেন। যেমন, বিজ্ঞানী, চিকিৎসা পেশাজীবী, আইটি প্রকৌশলী ইত্যাদি।

See also  জার্মানিতে কোন কাজের চাহিদা বেশি?

02 – Work Visa for Self-Employment

এই ধরনের ওয়ার্ক পারমিট ভিসা শুধুমাত্র তাদের প্রদান করা হয়। যাদের নিজস্ব কোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান কিংবা নিজস্ব পরিষেবা আছে। যার মাধ্যমে আপনি পর্তুগালে একজন স্বাধীন কর্মী হিসেবে কাজ করতে পারবেন।

03 – Work Visa for Highly-Skilled Workers

যেসব মানুষের নির্দিষ্ট কোনো কাজে পর্যাপ্ত দক্ষতা আছে। সেই মানুষ গুলোকে এই ধরনের ওয়ার্ক পারমিট ভিসা দেওয়া হয়। আর যখন আপনি এই ধরনের ভিসায় পর্তুগালে কাজ করতে পারবেন। তখন আপনি সর্বোচ্চ বেতন সুবিধা নিতে পারবেন।

04 – Work Visa for Cultural Activities

যখন আপনি সাংস্কৃতিক কোনো কর্মকান্ডের সাথে যুক্ত থাকবেন। তখন আপনাকে পর্তুগাল থেকে এই ধরনের ভিসা প্রদান করবে। তবে আপনার সাংস্কৃতিক কার্যক্রম গুলো অবশ্যই পর্তুগালের সংস্কৃতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে।

05 – Work Visa for Teaching

যদি পর্তুগালের কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কিংবা গবেষনা কেন্দ্র থেকে আপনার জব অফার লেটার প্রদান করে। তাহলে আপনি উক্ত ভিসার মাধ্যমে পর্তুগাল যেতে পারবেন। আর সেই ভিসায় গিয়ে পর্তুগালে চাকরি করতে পারবেন।

06 – “Tech” Visa

আপনি যদি একজন দক্ষ প্রযুক্তিবিদ হয়ে থাকেন। তাহলে আপনি আপনার প্রযুক্তিগত দক্ষতার মাধ্যমে উক্ত ভিসার জন্য আবেদন করতে পারবেন। তবে এই ভিসার জন্য আবেদন করার পূর্বে আপনাকে অবশ্যই পর্তুগালের কোনো প্রযুক্তি বিষয়ক কোম্পানির সাথে যুক্ত থাকতে হবে।

তো বর্তমান সময়ে পর্তুগালের ওয়ার্ক পারমিট ভিসার যেসব প্রকারভেদ আছে। সেগুলো উপরে উল্লেখ করা হয়েছে। আর আপনি আসলে কোন ধরনের ওয়ার্ক পারমিট ভিসার জন্য আবেদন করতে পারবেন। সেটা নির্ভর করবে আপনি কোন বিষয়ে দক্ষ তার উপর।

পর্তুগাল ওয়ার্ক পারমিট ভিসার জন্য কি কি লাগে?

যখন আপনি নিজের দেশ থেকে পর্তুগালে ওয়ার্ক পারমিট ভিসার জন্য আবেদন করবেন। তখন আপনার নিকট বেশ কিছু ডকুমেন্টস থাকতে হবে। যে গুলোর মাধ্যমে আপনি আপনার আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারবেন।

আর বর্তমান সময়ে পর্তুগাল ওয়ার্ক পারমিট ভিসার জন্য যেসব কাগজ পত্র এর দরকার হয়, সেগুলো নিচের তালিকায় উল্লেখ করা হলো। যেমন,

  1. আপনার নিকট একটি বৈধ পাসপোর্ট থাকতে হবে।
  2. আবেদনকারী প্রার্থীর পাসপোর্ট সাইজের ছবি।
  3. আপনার আর্থিক সচ্ছলতার প্রমানপত্র।
  4. পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট।
  5. হেলথ ইন্সুরেন্স।
  6. পর্তুগাল আবাসনের প্রমানপত্র।
  7. নিজের দেশের বৈধ নাগরিকত্বের প্রমান।
See also  রোমানিয়া ভিসা আপডেট নিউজ ২০২৩

তো উপরের এই ডকুমেন্টস গুলোর মাধ্যমে আপনি আপনার নিজের দেশ থেকে পর্তুগাল ওয়ার্ক পারমিট ভিসার জন্য আবেদন করতে পারবেন। তবে এই ভিসা আবেদন করার সময় আপনাকে আরো কিছু নিয়ম ফলো করতে হবে। যেমন,

  1. আপনার সকল ডকুমেন্টস গুলো ইংরেজি ভার্সন বা পর্তুগীজ ভার্সন হতে হবে।
  2. যদি সেটা সম্ভব না হয়, তাহলে আপনাকে সকল ডকুমেন্টস ট্রান্সলেট করতে হবে।

আপনার ডকুমেন্টস গুলো সত্যায়িত হতে হবে। প্রয়োজনে আপনি আপনার দেশের মধ্যে পর্তুগাল দুতাবাস থেকেও উক্ত কাজটি করতে পারবেন।

যখন আপনি পর্তুগাল ওয়ার্ক পারমিট ভিসার জন্য আবেদন করবেন। তখন আপনার প্রদান করা ডকুমেন্টস গুলোর জন্য উপরোক্ত নিয়ম গুলো ফলো করতে হবে। তারপর আপনি সেই ডকুমেন্টস এর মাধ্যমে পর্তুগাল ওয়ার্ক পারমিট ভিসার জন্য আবেদন করতে পারবেন।

কিভাবে পর্তুগাল ওয়ার্ক পারমিট ভিসার আবেদন করবেন?

যদি আপনার পূর্ণাঙ্গ যোগ্যতা থাকে আর যদি আপনার সকল ডকুমেন্টস থাকে। তাহলে আপনি মোট বেশ কয়েকটি নিয়ম ফলো করার মাধ্যমে ওয়ার্ক পারমিট ভিসার জন্য আবেদন করতে পারবেন। আর সেই নিয়ম গুলো নিয়ে এবার বিস্তারিত আলোচনা করবো।

বিশেষ বার্তাঃ যদি আপনি ওয়ার্ক পারমিট ভিসার জন্য আবেদন করতে চান। তাহলে আপনার নিকট অবশ্যই পর্তুগাল জব অফার লেটার থাকতে হবে।

ধাপ-১ঃ Work Permit Application

যখন আপনার কাছে পর্তুগাল জব অফার লেটার থাকবে। তারপর আপনি ওয়ার্ক পারমিট ভিসার জন্য আবেদন করতে পারবেন। সেজন্য অবশ্যই আপনাকে পর্তুগাল ইমিগ্রেশন অফিস এর সাথে যোগাযোগ করতে হবে। এছাড়াও আপনাকে ইমিগ্রেশন অফিস এর নিকট বেশ কিছু ডকুমেন্টস প্রদান করতে হবে। যেমন,
  1. The employment contract.
  2. Company tax statements.
  3. Proof of having registered with Social Security.
  4. Proof that an EU/EEA/Swiss citizen could not have filled the position.
তো যখন আপনি উপরের এই ডকুমেন্টস গুলো প্রদান করবেন। তারপর আপনি পর্তুগাল ইমিগ্রেশন থেকে ওয়ার্ক পারমিট এর জন্য আবেদন করার অনুমতি পাবেন। আর তারপরে আপনকে যেসব কাজ করতে হবে, সেগুলো নিচে উল্লেখ করা হলো।

ধাপ-২ঃ Application For Work Visa

এই ধাপে আপনাকে পর্তুগাল এম্বাসির নিকট যেতে হবে। তারপর আপনাকে একটি এপ্লিকেশন জমা দিতে হবে। এছাড়াও ওয়ার্ক ভিসার জন্য যে সকল ডকুমেন্টস এর দরকার হয়। আপনাকে সেই সকল ডকুমেন্টস গুলো জমা দিতে হবে। এর পরবর্তী ধাপে আপনাকে পর্তুগাল ভিসা ইন্টারভিউ দিতে হবে।
বলে রাখা ভালো যে, উক্ত ভিসার মাধ্যমে আপনাকে পর্তুগালে কাজের জন্য ভ্রমন করার পারমিশন দিবে। আর তারপর আপনাকে পুনরায় সেই দেশে গিয়ে রেসিডেন্স পারমিট এর জন্য আবেদন করতে হবে।

ধাপ-৩ঃ Residence Permit Application

যখন আপনি নিজের দেশ থেকে ওয়ার্ক ভিসায় পর্তুগাল যাবেন। তারপর আপনাকে পুনরায় রেসিডেন্স ভিসার জন্য আবেদন করতে হবে। কেননা, সেখানে কাজ করার জন্য আপনাকে স্থায়ী ভাবে থাকতে হবে।
আর যখন আপনি আবাসিক পারমিটের জন্য আবেদন করবেন। তখন আপনাকে সেই দেশের সামাজিক নিরাপত্তার জন্য নিবন্ধন করতে হবে। এর পাশাপাশি আপনাকে ট্যাক্স নাম্বার সংগ্রহ করতে হবে। আর সামাজিক নিরাপত্তা নিবন্ধন করার সময় আপনাকে Social Security Office এর নিকট যেতে হবে।

পর্তুগাল ওয়ার্ক পারমিট ভিসার খরচ কত?

যখন কোনো একজন ব্যক্তি তার নিজের দেশ থেকে পর্তুগাল ওয়ার্ক পারমিট এর জন্য আবেদন করবে। তখন তাকে অবশ্যই ওয়ার্ক পারমিট ফি প্রদান করতে হবে। আর বর্তমান সময়ে যে ফি এর পরিমান নির্ধারন করা হয়েছে, তার তালিকা নিচে দেওয়া হলো। যেমন,
  1. Cost of the entry visa issued by the Portuguese Embassy – €90 (may be subject to change from country to country)
  2. To submit the application for a residence permit for work at the SEF – €83
  3. To receive the residence permit for work from the SEF – €72
See also  অস্ট্রেলিয়া কাজের ভিসা আবেদন করার উপায়
বর্তমান সময়ে পর্তুগাল ওয়ার্ক পারমিট এর জন্য কত ফি দিতে হয়। সেই ফি এর পরিমান উপরের তালিকায় উল্লেখ করা হয়েছে।

পর্তুগাল ওয়ার্ক পারমিট ভিসার মেয়াদ কত বছর?

স্বাভাবিক ভাবে যখন আপনি পর্তুগাল ওয়ার্ক পারমিট ভিসায় যাবেন। তখন আপনি সেই দেশের মধ্যে ০১ বছর থেকে ০২ বছর মেয়াদ পর্যন্ত কাজ করতে পারবেন। তবে যখন আপনার ভিসার মেয়াদ শেষ হবে, তখন আপনি পুনরায় সেই ভিসা রিনিউ করার সুবিধা পাবেন।
আর আপনি যদি টানা ০৫ বছর পর্যন্ত পর্তুগালে থেকে কাজ করতে পারেন। তাহলে পরবর্তী সময়ে আপনি সেই দেশের নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারবেন। যদিওবা পর্তুগালে নাগরিকত্ব পাওয়া খুব কঠিন। তবুও সেই সময় আপনার আবেদন করার যোগ্যতা থাকবে।

আপনার জন্য আমাদের কিছুকথা

আপনি কিভাবে পর্তুগাল ওয়ার্ক পারমিট ভিসার জন্য আবেদন করবেন। আজকের আর্টিকেলে সে বিষয়ে বিস্তারিত বলা হয়েছে। তবে এরপরও যদি আপনার কোনো ধরনের প্রশ্ন থাকে। তাহলে আপনার প্রশ্নটি নিচে কমেন্ট করে জানিয়ে দিবেন।
আর এতক্ষন ধরে আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ। নতুন কিছু জানতে নিয়মিত আমাদের ওয়েবসাইটে ভিজিট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *