শপিফাই কি এবং কিভাবে এটি ব্যবহার করা হয়?

যদি আপনি স্বল্প বিনিয়োগ করার মাধ্যমে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান তৈরি করতে চান। তাহলে আপনার জন্য শপিফাই হবে অন্যতম একটি প্ল্যাটফর্ম। যেখানে আপনি কোনো প্রকার কোডিং দক্ষতা ছাড়াই তৈরি করতে পারবেন আর্কষনীয় সব অনলাইন স্টোর। যা পরিচালনা করার কাজকেও অনেক সহজ করে দিয়েছে শপিফাই। 

তো আজকের আলোচনা থেকে আমরা জানবো, Shopify কি এবং শপিফাই এর কাজ কি। এর পাশাপাশি একজন মানুষের ক্ষেত্রে শপিফাই শিখতে কতদিন লাগে সে সম্পর্কেও পরিস্কার ধারনা দেওয়ার চেষ্টা করবো।

Shopify কি এবং কিভাবে এটি ব্যবহার করা হয়?

Shopify কি | শপিফাই মানে কি?

What is Shopify: শপিফাই হলো চমৎকার একটি ওয়েবসাইট বিল্ডার, যার মাধ্যমে আপনি প্রোগ্রামিং দক্ষতা ছাড়াই প্রফেশনাল মানের অনলাইন স্টোর তৈরি করতে পারবেন। যেখানে খুব সহজে আপনার চাহিদা মতো প্রোডাক্ট যুক্ত করতে পারবেন। তারপর উক্ত অনলাইন স্টোর এর মাধ্যমে Shopify থেকে ইনকাম করতে পারবেন। 

তো এই জনপ্রিয় অনলাইন প্ল্যাটফর্মটি প্রায় ২০০৬ সাল থেকে এখন পর্যন্ত তাদের কার্যক্রম চলমান রেখেছে। আর বর্তমান সময়ে বিশ্বের প্রায় ১৭০ টিরও বেশি দেশের মানুষ এই জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্ম কে ব্যবহার করছে। এছাড়াও শপিফাই নামক এই অনলাইন প্ল্যাটফর্মটি প্রায় ২০+ দেশের ভাষা সাপোর্ট করে।  

শপিফাই এর কাজ কি?

আপনারা যারা অনলাইনে ব্যবসা করার চিন্তা ভাবনা করছেন। তাদের জন্য শপিফাই অনেক কার্যকরী ভূমিকা পালন করবে। কেননা, এটি হলো এমন একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম যার মাধ্যমে খুব সহজেই অনলাইনে ব্যবসা করার জন্য ই-কমার্স সাইট তৈরি করতে পারবেন। 

আর একটি অনলাইন স্টোর / ই-কমার্স সাইট তৈরি করা থেকে শুরু করে পরিচালনা করা পর্যন্ত। প্রায় সব কাজের ক্ষেত্রে শপিফাই আপনাকে যথেষ্ট হেল্প করবে। 

যেমন ধরুন, আপনি একটি নতুন অনলাইন স্টোর তৈরি করতে চান। সেক্ষেত্রে আপনি যদি কোনো ওয়েব ডিজাইনারের মাধ্যমে উক্ত কাজটি করতে যান। তাহলে আপনাকে অনেক টাকা খরচ করার প্রয়োজন হবে। 

See also  ইতালিতে নাগরিকত্ব পাওয়ার উপায় কি?

সেইসাথে যখন আপনার অনলাইন স্টোর এর কাজ শুরু করবেন। তখন সেগুলো পরিচালনা করার জন্য আপনাকে আরো জনবল হায়ার করতে হবে। যা আসলে সত্যি খুব ব্যয়বহুল একটি কাজ। আর এত বেশি টাকা ইনভেস্ট করার মতো সামর্থ্য সবার থাকেনা। যার কারণে অনেকের ই-কমার্স ব্যবসা করার ইচ্ছে থাকলেও ইনভেস্ট এর অভাবে তাদের ইচ্ছে পূরন হয়না। 

তো এই ধরনের মানুষ গুলোর জন্যই মূলত শপিফাই হবে উপযুক্ত একটি প্ল্যাটফর্ম। যেখানে আপনি মাত্র কয়েক ঘন্টার মধ্যেই শপিফাই দিয়ে অনলাইন স্টোর তৈরি করতে পারবেন। আর আপনার এই কাজে সহায়তা করার জন্য যেসব ফিচার, থিমস, প্লাগইন ইত্যাদির প্রয়োজন হবে। তার সব গুলোই আপনি শপিফাই স্টোর থেকে সংগ্রহ করতে পারবেন। 

কেন মানুষ shopify ব্যবহার করে?

মানুষ যখন কোনো কিছুর ব্যবহার শুরু করবে, তখন অবশ্যই তার মধ্যে বিশেষ কিছু সুবিধা থাকবে। আর যেহুতু মানুষ এখন ব্যাপকভাবে  শপিফাই ব্যবহার করা শুরু করেছে। সেহুতু এটা নিশ্চিত ভাবে বলা যায় যে, শপিফাই এর বেশ কিছু সুবিধা আছে। আর এবার আমি আপনাকে সেই সুবিধা গুলো সম্পর্কে বিস্তারিত বলবো। যেমন, 

০১- নিজস্ব অ্যাপ স্টোর

কোনো একটি ই-কমার্স সাইট তৈরি করার জন্য বিভিন্ন ধরনের থিম, প্লাগইন, ফিচার এর প্রয়োজন হয়। আর এই সমস্ত কিছু শপিফাই এর নিজস্ব অ্যাপ স্টোর এর মধ্যে মজুদ আছে। যেখান থেকে আপনি আপনার নিজের পছন্দমতো থিম ও প্লাগইন সংগ্রহ করতে পারবেন। আর সেগুলো কে ব্যবহার করে আপনি প্রফেশনাল মানের অনলাইন স্টোর তৈর করতে পারবেন। 

০২- আনলিমিটেড প্রোডাক্ট যুক্ত করার সুবিধা 

ব্যবসা করার জন্য শুধুমাত্র একটি ওয়েবসাইট থাকলেই হবেনা। বরং আপনাকে সেই ওয়েবসাইট এর মধ্যে আপনার সেল করার মতো প্রোডাক্ট যুক্ত করতে হবে। তো যদি আপনি শপিফাই এর মাধ্যমে কোনো অনলাইন স্টোর তৈরি করেন। তাহলে আপনি শুধুমাত্র কয়েকটা ক্লিক করার মাধ্যমে এই কাজটি করতে পারবেন। 

০৩- ব্যয় এর পরিমান কম 

যদি আপনি কোনো ওয়েব ডিজাইনার এর সাহায্য ই-কমার্স সাইট তৈরি করেন। তাহলে আপনাকে একটি ওয়েবসাইট এর পেছনে অনেক টাকা খরচ করতে হবে। এছাড়াও এই অনলাইন স্টোরকে পরিচালনা করার জন্য আপনাকে আরো বাড়তি খরচ করতে হবে। 

কিন্তুু শপিফাই এর ফলে আপনার বাড়তি কোনো টাকা খরচ করতে হবেনা। কেননা, আপনি শপিফাই দিয়ে নিজেই এই কাজ গুলো করতে পারবেন। যার ফলে আপনার ব্যয় এর পরিমান অনেক কম হবে। 

See also  পাসপোর্ট নাম্বার দিয়ে মালয়েশিয়া ভিসা চেক

০৪- প্রোগ্রামিং দক্ষতার প্রয়োজন নেই

শপিফাই দিয়ে অনলাইন স্টোর তৈরি করার জন্য আপনার কোনো ধরনের কোডিং বা প্রোগ্রামিং শেখার দরকার হবেনা। কেননা, এখানে আপনি অনেক কিছু রেডিমেড ডিজাইন দেখতে পারবেন। তবে যদি আপনার কোডিং দক্ষতা থাকে, তাহলে আপনি আরো প্রফেশনাল মানের অনলাইন স্টোর তৈরি করে নিতে পারবেন। 

০৫- সার্বক্ষনিক কাস্টমার সাপোর্ট সুবিধা

যখন আপনি আপনার ব্যবসা পরিচালনা করার জন্য অনলাইন ই-কমার্স সাইট তৈরি করবেন। তখন আপনার নানা ধরনের সমস্যা হবে। আর এই সমস্যা গুলোর সমাধান করার জন্য আপনি তাৎক্ষনিক ভাবে শপিফাই কাস্টমার কেয়ারের সাথে যোগাযোগ করতে পারবেন। কেননা, তারা আপনার সমস্যা দুর করার জন্য সপ্তাহে ০৭ দিন ২৪ ঘন্টা একটিভ থাকবে। 

০৬- নিজস্ব হোস্টিং সুবিধা

একটি ই-কমার্স সাইট তৈরি করার জন্য অবশ্যই হোস্টিং এর দরকার পড়বে। আর হোস্টিং কেনার জন্য আপনাকে অন্য কোনো প্রোভাইডারের কাছে যেতে হবেনা। বরং আপনি শপিফাইন এর নিজস্ব হোস্টিং ব্যবহার করতে পারবেন। যার ফলে আপনি উন্নত ও নির্ভরযোগ্য হোস্টিং ব্যবহারের সুবিধা ভোগ করতে পারবেন।  

তো আশা করি, কেন মানুষ shopify ব্যবহার করে সে সম্পর্কে আপনি পরিস্কার ধারনা পেয়ে গেছেন। আর এই সুবিধা গুলো পেতে হলে আপনাকেও শপিফাই নামক এই প্ল্যাটফর্ম কে ব্যবহার করতে হবে। 

শপিফাই কিভাবে ব্যবহার করা হয়?

তো যখন আপনি নতুন ব্যক্তি হিসেবে শপিফাই ব্যবহার করবেন। তখন আপনাকে তাদের ওয়েবসাইটে একটি একাউন্ট তৈরি করতে হবে। তারপর আপনাকে তাদের নির্দিষ্ট প্ল্যান কিনে নিতে হবে। আর যখন আপনি তাদের নিকট থেকে প্ল্যান কিনে নিবেন। তারপর আপনাকে শপিফাই এর সার্ভিস ব্যবহার করার এক্সেস প্রদান করা হবে। 

এরপর আপনি শপিফাই এর মাধ্যমে অনলাইন স্টোর তৈরি করার জন্য যাবতীয় ইকুইপমেন্ট গুলো তাদের কাছ থেকে সংগ্রহ করতে পারবেন। তারপর আপনি সেগুলোর মাধ্যমে আপনার পছন্দমতো অনলাইন স্টোর তৈরি করতে পারবেন। 

Shopify থেকে ইনকাম করার উপায় কি?

আপনি চাইলে ভিন্ন ভিন্ন উপায়ে Shopify থেকে ইনকাম করতে পারবেন। আর সেই উপায় গুলো নিচে উল্লেখ করা হলো। যেমন, 

  1. প্রোডাক্ট সেল করার মাধ্যমেঃ যখন আপনি শপিফাই দিয়ে অনলাইন স্টোর তৈরি করবেন। তখন আপনি সেই স্টোরের মাধ্যমে প্রোডাক্ট সেল করে টাকা আয় করতে পারবেন। 
  2. ওয়েবসাইট সেল করার মাধ্যমেঃ আপনি যদি প্রফেশনাল মানের ই-কমার্স ওয়েবসাইট তৈরি করতে পারেন। তাহলে সেগুলো অনলাইন মার্কেটে সেল করতে পারবেন। 
  3. ড্রপশিপিং করেঃ আপনি শপিফাই থেকে যেসব অনলাইন স্টোর তৈরি করবেন। সেগুলোর মাধ্যমে ড্রপশিপিং করেও টাকা আয় করতে পারবেন। 
  4. এফিলিয়েট মার্কেটিংঃ একজন এফিলিয়েট মার্কেটার শপিফাই এর মাধ্যমে অনলাইন স্টোর তৈরি করে। তারপর এফিলিয়েট সেলের মাধ্যমে ইনকাম করতে পারবেন। 
See also  ইতালিতে বাংলাদেশিদের বেতন কত?

তো বর্তমান সময়ে মানুষ যেসব উপায়ে Shopify থেকে ইনকাম করতে পারবে। সেই উপায় গুলো নিয়ে উপরে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। তবে যখন আপনি Shopify এক্সপার্ট হবেন। তখন আপনি আরো অন্যান্য উপায়ে Shopify থেকে ইনকাম করতে পারবেন। 

শপিফাই ড্রপশিপিং করে ইনকাম করা যাবে?

যেহুতু আপনি শপিফাই এর মাধ্যমে অনলাইন স্টোর তৈরি করতে পারবেন। সেহুতু আপনি খুব সহজেই সেই অনলাইন স্টোর এর মাধ্যমে ড্রপশিপিং করতে পারবেন। তবে যদি আপনি এই পদ্ধতি তে টাকা ইনকাম করতে চান। তাহলে আপনার মধ্যে অবশ্যই ড্রপশিপিং করার মতো পর্যাপ্ত দক্ষতা থাকতে হবে।

Shopify বিক্রয় থেকে কত টাকা নেয়?

আপনি যখন শপিফাই এর মাধ্যমে একটি অনলাইন স্টোর তৈরি করবেন। তখন আপনি সেই অনলাইন স্টোরের মধ্যে শপিফাই থেকে পেমেন্ট মেথড এড করতে পারবেন। যার মাধ্যমে কাস্টমার আপনার অনলাইন স্টোরে এসে প্রোডাক্ট কেনার পর পেমেন্ট করতে পারবে। 

তো যখন আপনি তাদের পেমেন্ট মেথড ব্যবহার করবেন। তখন আপনার প্রতিটা লেনদেন থেকে মোট (2.9% + $0.30) ফি চার্জ হিসেবে কেটে নিবে। তবে যখন আপনি Shopify পেমেন্ট ছাড়া অন্য কোনো পেমেন্ট গেটওয়ে ব্যবহার করবেন। তখন আপনাকে প্রতিটি লেনদেনের জন্য প্রায়  2% ফি দিতে হবে।

Shopify মার্কেটিং কি?

কোনো ব্যবসা করার জন্য আপনি যখন শপিফাই এর মাধ্যমে অনলাইন স্টোর তৈরি করবেন। তারপর সেই অনলাইন স্টোরে প্রোডাক্ট যুক্ত করবেন। তখন আপনার প্রোডাক্ট ক্রয় করার জন্য যেসব টার্গেট করা কাস্টমার আছে। বুষ্ট/প্রমোট করার মাধ্যমে তাদের নিকট আপনার প্রোডাক্টের বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করবে। মূলত এই বিজ্ঞান প্রচার করার মাধ্যমকে বলা হবে,  Shopify মার্কেটিং।

শপিফাই শিখতে কতদিন লাগে?

সত্যি বলতে কোনো একজন মানুষের শপিফাই শিখতে মোট কতদিন সময় লাগবে, সেটি আসলে নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয়। কেননা, এই সময়টি আপনার দক্ষতা ও শেখার আগ্রহের উপর নির্ভর করবে। আর যদি আপনার শপিফাই এর ব্যাসিক বিষয় গুলো সম্পর্কে আগে থেকেই জানা থাকে। তাহলে আপনি মাত্র ১৫ দিন থেকে ৩০ দিনের মধ্যে শপিফাই এর এডভান্স লেভেলের বিষয় গুলো শিখতে পারবেন। 

কিন্তুু আপনি যদি একবারে নতুন হয়ে থাকেন। তাহলে আপনাকে এর থেকে বেশি সময় ধরে শপিফাই শেখার প্রয়োজন হবে। কেননা, আপনি যতো ভালো করে শপিফাই শিখতে পারবেন। আপনার ‍অনলাইন স্টোর তৈরি করার দক্ষতা ঠিক ততো বেশি বৃদ্ধি পাবে। তাই কিছুটা সময় ব্যয় করার মাধ্যমে শপিফাই শেখার চেস্টা করবেন।

আপনার জন্য লেখকের কিছু মন্তব্য 

আজকের আলোচনার মূল বিষয় হলো, শপিফাই কি। তো আশা করি, এই লেখাটি থেকে আপনি শপিফাই সম্পর্কে অনেক অজানা বিষয় জানতে পেরেছেন। আর যদি আপনি এমন ধরনের অজানা বিষয় গুলো সহজ ভাষায় জানতে চান। তাহলে নিয়মিত আমাদের Niru Web ব্লগে ভিজিট করবেন। ধন্যবাদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *