বাংলাদেশের জন্য পর্তুগাল জব সিকার ভিসা

বর্তমান সময়ে আপনি আমাদের বাংলাদেশ থেকে জব সিকার ভিসায় পর্তুগাল যেতে পারবেন। তবে একজন বাংলাদেশি নাগরিকের পর্তুগাল জব সিকার ভিসার জন্য কি কি করতে হবে। কোন ধরনের ডকুমেন্টস এর প্রয়োজন হবে। সেই বিষয় গুলো নিয়ে আজকে আমি বিস্তারিত আলোচনা করবো। 

তো আপনি যদি পর্তুগাল জব সিকার ভিসা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চান। তাহলে নিচের আলোচনায় চোখ রাখুন। 

বাংলাদেশের জন্য পর্তুগাল জব সিকার ভিসা

বাংলাদেশের জন্য পর্তুগাল জব সিকার ভিসা চালু আছে?

আপনি যদি একজন বাংলাদেশের বৈধ নাগরিক হয়ে থাকেন। তাহলে আপনি পর্তুগাল জব সিকার ভিসার জন্য আবেদন করতে পারবেন। আর শুধুমাত্র জব সিকার ভিসা নয় বরং আপনি চাইলে ওয়ার্ক পারমিট ভিসার মাধ্যমেও পর্তুগালে যেতে পারবেন। 

তবে যেহুতু আপনি জব সিকার ভিসায় পর্তুগাল যেতে চাচ্ছেন। তাই সবার আগে আপনাকে পর্তুগাল জব সিকার ভিসা সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানতে হবে। 

পর্তুগাল জব সিকার ভিসা কাকে বলে?

সহজ কথায় বলতে গেলে পর্তুগাল জব সিকার ভিসা হলো এমন এক প্রকারের ভিসা। যার মাধ্যমে আপনি পর্তুগালের মতো দেশে চাকরি খুজতে পারবেন। কেননা, এই ধরনের ভিসার মেয়াদ সর্বোচ্চ ৯০ দিন পর্যন্ত দেওয়া হয়। 

আর আপনি যদি এই ৯০ দিনের মধ্যে পর্তুগালে চাকরি খুজে নিতে পারেন। তাহলে আপনি পর্তুগালে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত কাজ করার ওয়ার্ক পারমিট এর জন্য আবেদন করতে পারবেন। কিন্তুু যখন আপনি চাকরি খোজার জন্য ভিসার আবেদন করবেন। তখন সেই ভিসাকে বলা হবে, পর্তুগাল জব সিকার ভিসা। 

See also  অনলাইন ব্যবসা কি? | অনলাইন ব্যবসার আইডিয়া

পর্তুগাল জব সিকার ভিসার সুবিধা গুলো কি কি ?

যারা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে পর্তুগালে জব সিকার ভিসায় যাবে। তারা বিভিন্ন ধরনের সুবিধা ভোগ করতে পারবে। আর আপনিও যদি এই ভিসার মাধ্যমে পর্তুগাল যেতে চান। তাহলে আপনি সেই দেশে গিয়ে কি কি সুবিধা ভোগ করতে পারবেন। সেই সুবিধা গুলো নিচে শেয়ার করা হলো। যেমন, 

০১ – ৯০ দিন ধরে অবস্থান করা

দেখুন, আপনি যদি এই ভিসার মাধ্যমে পর্তুগাল যেতে পারেন। তাহলে আপনি সেই দেশে মোট ৯০ দিন পর্যন্ত থাকতে পারবেন। তারপর সেই দেশে আপনি আপনার চাহিদা সম্পন্ন চাকরি খোজার কাজ করতে পারবেন। 

০২ – একই ভিসার ভিন্ন ব্যবহার

বর্তমান সময়ে বিভিন্ন মানুষ এই ভিসাকে ভিন্ন ভিন্ন ভাবে ব্যবহার করে। যেমন, কেউ জব সিকার ভিসায় গিয়ে পর্তুগালের মতো দেশে ভ্রমন করে। আবার কেউ এই দেশের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের ইন্ডাস্ট্রিয়াল ট্রেনিং নেওয়ার জন্য আসে। 

কিন্তুু আপনি যেহুতু পর্তুগালে চাকরি খুজতে যাবেন। সেহুতু আপনি এই ভিসাকে চাকরি খোজার উদ্দেশ্যে ব্যবহার করতে পারবেন। 

০৩ – বয়সের সীমাবদ্ধতা নেই 

যদি আপনি পর্তুগালের মতো দেশে ওয়ার্ক পারমিট ভিসায় যেতে চান। তাহলে আপনার ক্ষেত্রে বয়সের একটা সীমা নির্ধারন করে দেওয়া হবে। আর আপনার বয়স সেই সীমার মধ্যে থাকলে আপনি ওয়ার্ক পারমিট পাবেন। কারণ, যেকোনো বয়সের মানুষের জন্য পর্তুগাল জব সিকার ভিসা উন্মুক্ত আছে। 

০৪ – কাজের দক্ষতার প্রয়োজন নেই

কোনো একটি দেশে ওয়ার্ক পারমিট পেতে হলে নির্দিষ্ট কাজের দক্ষতার প্রয়োজন হয়। কিন্তুু আপনি যখন পর্তুগাল জব সিকার ভিসায় যাবেন। তখন আপনাকে কোনো কাজের অভিজ্ঞতার প্রমাণ দিতে হবেনা। কেননা, এই ভিসায় আপনি নিজের যোগ্যতায় চাকরি খোজার চেষ্টা করবেন। 

০৫ – কোনো ভাষা দক্ষতার প্রয়োজন নেই

যখন আপনি জব সিকার ভিসায় পর্তুগাল যাবেন। তখন আপনার কোনো ধরনের ভাষা দক্ষতার কোর্স করতে হবেনা। কারণ, আপনার যদি আইইএলটিএস স্কোর না থাকে। তারপরও আপনি জব সিকার ভিসার জন্য আবেদন করতে পারবেন। 

See also  ডিজিটাল মার্কেটিং এর বর্তমান অবস্থা কেমন?

তো একজন ব্যক্তি জব সিকার ভিসায় পর্তুগাল গেলে, সেই ব্যক্তি যেসব সুবিধা ভোগ করতে পারবে। সেই সুবিধা গুলো উপরের আলোচনায় শেয়ার করা হয়েছে। 

পর্তুগাল জব সিকার ভিসার জন্য কি কি লাগবে?

শুনুন, যখন আপনি কোনো একটি দেশে প্রবেশ করবেন। তখন আপনার নিকট অবশ্যই ভিসা থাকতে হবে। আর এই ভিসা আবেদন করার সময় আমাদের বিভিন্ন ধরনের প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস জমা দেওয়ার প্রয়োজন পড়ে। 

ঠিক তেমনিভাবে যখন আপনি আমাদের বাংলাদেশ থেকে পর্তুগাল জব সিকার ভিসার জন্য আবেদন করবেন। তখন আপনার কাছে যেসব ডকুমেন্টস থাকতে হবে। সেই ডকুমেন্টস গুলো নাম নিচের তালিকায় শেয়ার করা হলো। যেমন, 

  1. আপনার পর্তুগালের ভাষায় (কম/বেশি) কথা বলার দক্ষতা থাকতে হবে। 
  2. পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট। 
  3. পর্তুগালে ০৩ মাস থাকার জন্য পর্যাপ্ত অর্থের প্রমান। 
  4. বিমান রিটার্ন টিকেট। 
  5. বৈধ ভ্রমন বীমা ও মেডিকেল সার্টিফিকে। 
  6. বৈধ পাসপোর্ট অথবা ভ্রমন করার ডকুমেন্টস।
  7. ভিসা আবেদনপত্র। 
  8. আপনার সদ্য তোলা পাসপোর্ট সাইজের ছবি। 

তো আপনি যদি পর্তুগাল জব সিকার ভিসার জন্য আবেদন করতে চান। তাহলে আপনার নিকট যেসব ডকুমেন্টস এর দরকার হবে। সেগুলোর নাম উপরের তালিকায় শেয়ার করা হয়েছে।  

কিভাবে পর্তুগাল জব সিকার ভিসার আবেদন করবো?

আপনারা যারা জব সিকার ভিসার জন্য আবেদন করতে চান। তাদের সবার আগে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস সংগ্রহ করতে হবে। আর যখন আপনি সেই ডকুমেন্টস গুলো একত্র করবেন। তারপর সে গুলো নিয়ে আপনাকে পর্তুগালের ভিসা কনসুলেট অথবা ভিসা অ্যাম্বাসির নিকট যেতে হবে।

এরপর তাদের কে বলতে হবে যে, আপনি জব সিকার ভিসার জন্য আবেদন করতে চান। আর এর পরবর্তী ধাপে আপনাকে যেসব কাজ করতে হবে। সেই কাজ গুলো কনসুলেট বা অ্যাম্বাসির কর্মকর্তারা জানিয়ে দিবে। 

পর্তুগাল জব সিকার ভিসায় কাজ করা যাবে?

এমন অনেক মানুষ আছেন যারা আসলে জানতে চায় যে, পর্তুগালে জব সিকার ভিসায় কাজ করা যাবে কিনা। তো যখন আপনি জব সিকার ভিসায় পর্তুগাল যাবেন। তারপর আপনি আপনার যোগ্যতার উপর ভিত্তি করে বিভিন্ন কোম্পানির চাকরি নিয়োগে আবেদন করতে পারবেন। 

See also  বাংলাদেশ থেকে পর্তুগাল যাওয়ার সহজ নিয়ম

আর যখন কোনো কোম্পানি থেকে আপনাকে নিয়োগ প্রদান করা হবে। তারপর সেই কোম্পানি থেকে আপনাকে একটি জব অফার লেটার দেওয়া হবে। এরপর আপনি সেই জব অফার লেটার সহো আরো অন্যান্য প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস দিয়ে ওয়ার্ক পারমিট ভিসার জন্য আবেদন করতে পারবেন। 

তো এই আবদন যখন গ্রহনযোগ্য হবে। তারপর আপনি নির্ধারিত সময় পর্যন্ত পর্তুগালে চাকরি করতে পারবেন। এছাড়াও পর্তুগালে যখন আপনার কাজের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে। তখন আপনি পুনরায় সেই ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর জন্য আবেদন করতে পারবেন। 

পর্তুগাল জব সিকার ভিসা পেতে কতদিন সময় লাগে?

যখন কোনো একজন মানুষ ভিসার জন্য আবেদন করবে। তখন তার মনে একটি প্রশ্ন বারবার ঘুরপাক খাবে। সেটি হলো, আবেদন করার কতদিন পর ভিসা পাওয়া যাবে। যদিওবা ভিসা পাওয়ার সময়টা নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয়। কেননা, সময় ও পরিস্থিতি ভেদে ভিসা পেতে ভিন্ন সময়ের দরকার হয়। 

তো আপনি যদি আমাদের বাংলাদেশ থেকে পর্তুগাল জব সিকার ভিসার জন্য আবেদন করেন। তাহলে আপনাকে প্রায় ০৩ মাস থেকে ০৬ মাস পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। আর উক্ত সময়ের মধ্যে আপনি আপনার কাঙ্খিত ভিসা পেয়ে যাবেন। 

আমি পর্তুগাল টুরিস্ট ভিসাকে ওয়ার্ক পারমিট ভিসা করতে পারবো?

আমাদের বাংলাদেশ থেকে যেসব মানুষ ভিজিট ভিসায় পর্তুগাল যায়। তারা অনেকেই ভিজিট ভিসায় গিয়ে পর্তুগালে চাকরি করতে চায়। তো বর্তমান সময়ে পর্তুগাল থেকে এমন কোনো সুবিধা চালু করেনি। যার কারণে আপনি যদি পর্তুগালে চাকরি করতে চান, তাহলে আপনাকে অবশ্যই ওয়ার্ক পারমিট নিতে হবে।

আপনার জন্য আমাদের কিছুকথা

বাংলাদেশ থেকে কিভাবে পর্তুগাল জব সিকার ভিসার জন্য আবেদন করা যাবে। সেই বিষয় গুলো নিয়ে আজকে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। তো আশা করি, এই আর্টিকেল থেকে আপনি অনেক উপকৃত হয়েছেন। 

তো আপনি যদি এমন ধরনের অজানা বিষয় গুলো সহজ ভাষায় জানতে চান। তাহলে আমাদের ব্লগে নিয়মিত ভিজিট করবেন। ধন্যবাদ, ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *