ট্রেডিং কি? Trading হালাল নাকি হারাম?

সহজ কথায় বলতে গেলে, স্টক মার্কেট বা শেয়ার মার্কেট এর মধ্যে যে সকল পন্য বা পরিষেবার ক্রয় বিক্রয় করা হয় তাকে বলা হয়, ট্রেডিং। আর এই ক্রয় বিক্রয় করার মূল উদ্দেশ্যে হলো, অধিক পরিমান মুনাফা অর্জন করা। সে কারণে ট্রেডিং এর মাধ্যমে একজন ক্রেতার সাথে একজন বিক্রেতার মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন করা হয়। 

আমি কখনই ট্রেডিং কে সাপোর্ট করিনা। তবে পাঠকদের ট্রেডিং (Trading) সম্পর্কে ধারনা দেওয়ার জন্য আজকের এই আর্টিকেল টি লেখা হয়েছে।

Online Trading: অনলাইন ট্রেডিং এর ক্ষেত্রে আপনি একই বিষয় লক্ষ্য করতে পারবেন। কেননা, ট্রেডিং প্লাটফর্মে মোট ০২ টি দল আছে। ১ম দল, যারা ট্রেডিং এর মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের পন্য বা পরিষেবা ক্রয় করতে চায়। আবার আরেক দল আছে, যারা উক্ত পন্য বা পরিষেবা কে বিক্রয় করতে চায়।


আর অনলাইন ট্রেডিং এর ক্ষেত্রে এই যাবতীয় বিষয় গুলো ইলেকট্রনিক্স এর মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। যেখানে আপনি নিজের ঘরে বসে ট্রেডিং করার সুযোগ পাবেন।  

ট্রেডিং কি? Trading হালাল নাকি হারাম?

Table of Contents

ট্রেডিং কাকে বলে?

একটি স্টক মার্কেট এর মধ্যে যখন কোনো ধরনের পন্য বা পরিষেবা ক্রয় বিক্রয় করে অতিরিক্ত মুনাফা অর্জনের চেষ্টা করা হয় তখন তাকে বলা হবে, ট্রেডিং। যার সাহায্য একজন ক্রেতা ও বিক্রেতার মধ্যে সম্পর্ক স্থাপিত হয়। আর যারা মূলত এই ধরনের ট্রেডিং এর সাথে যুক্ত থাকে তাদের বলা হয়, ট্রেডার। 

অনলাইন শেয়ার ট্রেডিং কি?

এবার আমাদের জানতে হবে যে, অনলাইন শেয়ার ট্রেডিং মানে কি। আর Online Share Trading এর মানে হলো মুনাফা অর্জন করার জন্য স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ার গুলো কে কেনা বেচা করা।


যেহুতু এটি অনলাইন শেয়ার ট্রেডিং। তাই এই ধরনের ট্রেডিং গুলো একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে স্টক ক্রয় এবং বিক্রয় জড়িত থাকে।

ট্রেডিং কত প্রকার ও কি কি?

এতক্ষনের আলোচনা থেকে আমরা জানতে পারলাম, ট্রেডিং কি। তাই এবার আপনাকে জানতে হবে যে, ট্রেডিং কত  প্রকার ও কি কি। আর আপনি যদি উক্ত বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চান। তাহলে আমি আপনাকে বলবো যে, ট্রেডিং কে মূলত বেশ কয়েকটি ভাগে ভাগ করা সম্ভব। সেগুলো হলো, 

See also  আমাজন এফিলিয়েট মার্কেটিং কিভাবে শুরু করবো?


  1. মোমেন্টাম ট্রেডিং (Momentum trading),

  2. ডে-ট্রেডিং (Day-trading),

  3. পজিশনাল ট্রেডিং (Positional Trading),

  4. সুইং ট্রেডিং (Swing trading),

  5. টেক্নো-ফান্ডামেন্টাল ট্রেডিং (Techno-Fundamental Trading),

  6. ফান্ডামেন্টাল ট্রেডিং (Fundamental Trading),

  7. টেকনিকাল ট্রেডিং (Technical trading),

  8. ক্রিপ্টো ট্রেডিং (Crypto trading),

  9. কমোডিটি ট্রেডিং (Commodity trading),

  10. ইকুইটি ট্রেডিং (Equity trading),


উপরের তালিকা তে আপনি মোট ১০ প্রকারের ট্রেডিং এর নাম দেখতে পাচ্ছেন। মূলক স্টক মার্কেট বা শেয়ার বাজার গুলোতে থাকা ট্রেডিং গুলোকে এই কয়েকটি ভাগে ভাগ করা হয়। 

অনলাইন ট্রেডিং কি?

Online Trading কে ডিজিটাল ট্রেডিং বলা যায়। কারণ, এই ধরনের ট্রেডিং সম্পূর্ণ  ইন্টারনেট ভিত্তিক। যেখানে আপনি নিজের ঘরে বসে ভার্চয়ালি ট্রেডিং করতে পারবেন। তাই সময়ের সাথে সাথে এই ধরনের অনলাইন ট্রেডিং এর চাহিদা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। 

অনলাইন ট্রেডিং এর সুবিধা ও অসুবিধা 

সহজ কথায় বলতে গেলে, যখন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম কে কাজে লাগিয়ে ট্রেডিং এর কাজ গুলো করা হয়। তখন তাকে বলা হবে, অনলাইন ট্রেডিং। আর সময়ের সাথে সাথে এই ধরনের অনলাইন ট্রেডিং এর চাহিদা ক্রমাগত ভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। 

অনলাইন ট্রেডিং এর সুবিধা গুলো কি কি?

যদি আপনি বর্তমান সময়ে অনলাইন ট্রেডিং করেন। তাহলে আপনি বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে সুবিধা ভোগ করতে পারবেন। আর সেই সুবিধা গুলো হলো, 


  1. অনলাইনে ট্রেডিং করলে আপনি সরাসরি নিজে থেকেই লেনদেন এর সকল কাজ করতে পারবেন। 

  2. এছাড়াও অনলাইন ট্রেডিং করলে সময় খুব কম ব্যয় হয়। 

  3. আপনি ঘরে বসে ট্রেডিং এনলাইস করতে পারবেন। 

  4. পাশাপাশি ট্রেডিং করার সময় আপনার খরচের পরিমান তুলনামূলক ভাবে কম হবে।

  5. ট্রেডিং করার সময় আপনি যদি কোনো সমস্যার মধ্যে পড়েন। তাহলে সাপোর্ট থেকে খুব দ্রুত সমাধান পাবেন। 


উপরে আপনি বেশ কিছু অনলাইন ট্রেডিং এর সুবিধা দেখতে পাচ্ছেন। মূলত আপনি যদি উক্ত সুবিধা গুলো ভোগ করতে চান। তাহলে অবশ্যই আপনাকে অনলাইন ট্রেডিং করতে হবে। 

অনলাইন ট্রেডিং এর অসুবিধা গুলো কি কি?

সুবিধার পাশাপাশি অনলাইন ট্রেডিং এর বেশ কিছু অসুবিধা আছে। আর সেই অসুবিধা গুলো নিয়ে নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো। 


  1. যেহুতু আপনি নিজে থেকে ট্রেডিং করবেন। সেহুতু এই ধরনের ট্রেডিং এর মধ্যে আপনার আসক্ত হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকবে। 

  2. না বুঝে কিংবা নিজের অজান্তেই আপনার অতিরিক্ত পরিমান বিনিয়োগ করার সম্ভাবনা থাকবে। 

  3. অনলাইন ট্রেডিং এর কারণে আপনার মধ্যে ট্রেডিং রিলেটেড অনেক জ্ঞান অসম্পূর্ণ থেকে যাবে। 

  4. যদি কোনো কারণে আপনার ইন্টারনেট সমস্যা হয় কিংবা ইন্টারনেট বন্ধ থাকে। তাহলে আপনার অনেক লস হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকবে। 

See also  পর্তুগাল ওয়ার্ক পারমিট ভিসা অনলাইন আবেদন


অনলাইন ট্রেডিং এর যে সকল অসুবিধা লক্ষণীয়। সেই অসুবিধার কথা গুলো উপরের তালিকায় উল্লেখ করা হয়েছে। আশা করি, আপনি অনলাইন ট্রেডিং এর সুবিধা ও অসুবিধার বিষয় গুলো সম্পর্কে সঠিক ধারনা পেয়ে গেছেন। 

ট্রেডিং করে কি নিজের ক্যারিয়ার গড়া সম্ভব?

দেখুন, পৃথিবীর সব মানুষের মনে অর্থ ইনকাম করার ইচ্ছা রয়েছে। কিন্তুু সবাই কি তাদের মনমতো অর্থ আয় করতে পারে? – উত্তরে বলবো যে, না। ঠিক একই বিষয় আপনি ট্রেডিং এর মধ্যেও লক্ষ্য করতে পারবেন। কেননা, গুটি কয়েক মানুষ ট্রেডিং করে সফলতা পেলেও অধিকাংশ মানুষ ট্রেডিং করে নিঃস্ব হয়ে গেছে। 


কেননা, ট্রেডিং এর মধ্যে সফলতার পাওয়ার পরিমান মাত্র ১০%. অর্থ্যাৎ মোট ১ হাজার ব্যক্তির মধ্যে মাত্র ১০০ জন ব্যক্তির সফলতা পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে (আনুমানিক)। আর বাকি মানুষরা নিজের সর্বস্ব খুইয়ে দেয় এই ট্রেডিং এর মধ্যে। সে কারণে এটা নিশ্চিত ভাবে বলা যায় যে, ট্রেডিং একজন মানুষের অর্থনৈতিক কাঠামো কে ধ্বংস করার জন্য যথেষ্ট 

ট্রেডিং কি হালাল নাকি হারাম?

এতক্ষনের আলোচনা থেকে আমরা ট্রেডিং নিয়ে বিভিন্ন বিষয় জানতে পারলাম। তো এবার আমাদের জানতে হবে যে, ট্রেডিং (Trading) কি হালাল নাকি হারাম? আর ট্রেডিং করার আগে এই বিষয়টি আমাদের অবশ্যই জেনে নেওয়া উচিত। 


তো যদি আপনি ধর্মীয় দিক থেকে বিবেচনা করেন তাহলে ট্রেডিং হলো সম্পূর্ণ একটি হারাম কাজ। অর্থ্যাৎ যারা ট্রেডার হিসেবে কাজ করছেন তাদের কাজ গুলো হারাম এর আওতায় পড়ে। কারণ, ট্রেডিং এর মধ্যে জুয়া ও সুদ জড়িত আছে। আর আমাদের ধর্মে সুদ ও জুয়াকে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

🔕NOTE: সুদ এবং জুয়া ইসলামে নিষিদ্ধ, এগুলো মানুষের মধ্যে বিভেদ এবং অস্থিরতা সৃষ্টি করে। মনে রাখবেন, সুদ ধনীকে আরও ধনী করে এবং দরিদ্র কে আরও দরিদ্র করে। আর জুয়া একজন মানুষকে লোভী ও অলস করে তোলে।

তবে ট্রেডিং এর তত্ত্ব অনুযায়ী, ট্রেডিং কে হালাল হিসেবে প্রকাশ করা হয়েছে। কিন্তুু আমাদের ধর্মীয় দিক থেকে ট্রেডিং হালালের আওতায় পড়েনা 

ট্রেডিং ও বিনিয়োগের পার্থক্য কি?

আমরা অনেকেই আছি, যারা ট্রেডিং ও বিনিয়োগ এই দুটো বিষয় কে একই মনে করি। তো যদি আপনিও এমনটা মনে করেন তাহলে আপনার ধারনা সম্পূর্ণ ভুল। কেননা, এই দুটো বিষয়ের মধ্যে বিস্তর পার্থক্য আছে। 


যেমন, আপনি যখন কোনো কিছুর মধ্যে বিনিয়োগ করবেন। তখন আপনার সেই বিনিয়োগ করা সম্পদ কে দীর্ঘদিন পর্যন্ত বসিয়ে রাখতে পারবেন। তারপর আপনি উক্ত সম্পদ বিক্রি অথবা ব্যবহার করে আপনার কাঙ্খিত অর্থ উপার্জন / সেবা নিতে পারবেন। অপরদিকে ট্রেডিং এর ক্ষেত্রে আপনি ভিন্ন চিত্র দেখতে পারবেন। 

See also  বাংলাদেশের জন্য পর্তুগাল জব সিকার ভিসা


কারন, ট্রেডিং হলো খুব স্বল্পমেয়াদী একটি প্রক্রিয়া যেখানে প্রতিদিন, প্রতি সপ্তাহে কিংবা প্রতি মাসে লেনদেন করা হয়। আর এই লেনদেন করার মাধ্যমে আপনি উপার্জন করতে পারবেন আবার আপনার অর্থ লস হওয়ারও চান্স থাকবে।   

ট্রেড এর অর্থ কি?

Trade অর্থ এর অর্থ হলো, ব্যবসা বাণিজ্য করা, কেনাবেচা করা। তবে ট্রেডের আরো অনেক অর্থ আছে যেমন, বিনিময় করা, বদলে নেওয়া এবং নতুন কিছু কিনতে মূল্য পরিশোধের অংশ হিসেবে পুরনো দ্রব্য দেওয়া। 

ডে ট্রেডিং বলতে আপনি কি বুঝেন?

স্টক মার্কেটে যে ট্রেডিং গুলো প্রতিদিনে লেনদেন করা হয় তাকে বলা হয়, ডে ট্রেডিং (Day Trading). 

Intraday ট্রেডিং কারা করতে পারে?

Intraday ট্রেডিং কারা করতে পারবে, এটা নিয়ে তেমন কোনো বাধাধরা নিয়ম নাই। কেননা, যে সকল মানুষ পূর্নাঙ্গ ভাবে বাজারের প্রবণতা এবং প্যাটার্ন বিশ্লেষণ করতে পারবে। তারাই এই ধরনের Intraday ট্রেডিং করতে পারবে। 

Intraday ট্রেডিং কি লাভজনক?

সত্যি বলতে ট্রেডিং এর মধ্যে লাভ বা ক্ষতি দুটোই বিদ্যমান। তবে এই সেক্টরে তারাই লাভ করতে পারে যাদের ট্রেডিং সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ ধারনা আছে। ঠিক তেমনি ভাবে আপনার জন্য Intraday ট্রেডিং তখনি লাভজনক হবে যখন আপনার দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা থাকবে। 

অনলাইন ট্রেডিং এর সুবিধা কি?

বর্তমান সময়ে অনলাইন ট্রেডিং এর জনপ্রিয়তা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর কারণ হলো, আপনি অনেক দুর থেকেও অনলাইনের মাধ্যমে এই ধরনের ট্রেডিং গুলোতে অংশগ্রহন করতে পারবেন। যার ফলে আপনার সময় ও শ্রম দুটোই বেঁচে যাবে। 

একই শেয়ার একদিনে কতবার ক্রয় বিক্রয় করা যায়?

আসলে একই শেয়ার আপনি একদিনে কতবার ক্রয় ও বিক্রয় করতে পারবেন সেটি নিয়ে কোনো বিধি নিষেধ প্রদান করা হয়নি। অর্থ্যাৎ, আপনি চাইলে অধিকবার একই শেয়ার একদিনে ক্রয় করতে পারবেন আর সেইসাথে উক্ত শেয়ার বিক্রি করতে পারবেন। 

ইন্টারনেট ভিত্তিক ট্রেডিং কি?

অনলাইন প্ল্যাটফর্মের উপর ভিত্তি করে যে সকল আর্থিক পণ্য ক্রয় ও বিক্রয় করা হয়। তখন তাকে ইন্টারনেট ভিত্তিক ট্রেডিং বলা হয়। 

ক্রিপ্টো ট্রেড কি লাভজনক?

সত্যি বলতে ক্রিপ্টো ট্রেড অনেক লাভজনক। তবে এই ধরনের ক্রিপ্টো টেড এর মধ্যে বিপুল পরিমান ঝুঁকি রয়েছে। 

মোবাইল ট্রেডিং কিভাবে করব?

আপনি বর্তমানে মোবাইল দিয়ে ট্রেডিং করতে পারবেন। তবে তার জন্য ট্রেডিং রিলেটেড অ্যাপস ডাউনলোড করতে হবে। আর উক্ত অ্যাপস গুলো থেকে মোবাইল দিয়ে ট্রেডিং করতে পারবেন। 

ট্রেডিং ভালো নাকি বিনিয়োগ ভালো?

সত্যি বলতে বিনিয়োগ সাধারনত দীর্ঘ মেয়াদী হয় সে কারণে এর মধ্যে ঝুঁকি কম থাকে। কিন্তুু আমরা জানি যে, ট্রেডিং খুব স্বল্প মেয়াদী হয় যার ফলে ট্রেডিং এর মধ্যে অনেক বেশি ঝুঁকি থাকে। তাই আমার মতে আপনার বিনিয়োগ করা ভালো হবে।

ট্রেডিং নিয়ে আমাদের শেষকথা

প্রিয় পাঠক, আমি কখনই চাইবো না যে, আপনি ট্রেডিং করুন। বরং আপনি যেন ট্রেডিং সম্পর্কে সঠিক ধারনা নিতে পারেন। মূলত সে কারণেই আজকের এই আর্টিকেল টি লেখা হয়েছে। আর আমার দীর্ঘ বিশ্বাস আছে যে, আপনি ট্রেডিং কি সে সম্পর্কে পরিস্কার ভাবে বুঝতে পেরেছেন। 


আর যদি আপনি এই ধরনের অজানা বিষয় গুলো সম্পর্কে জানতে চান। তাহলে নিয়মিত Niru Web এর মধ্যে ভিজিট করবেন। ধন্যবাদ, ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *