স্নাতক ও স্নাতকোত্তর কি? (বিস্তারিত জানুন)

সহজ কথায় বলতে গেলে, কোনো একজন শিক্ষার্থী যখন এসএসসি পরীক্ষার উত্তীর্ণ হবে। তারপর সেই শিক্ষার্থী যখন ৩ বছর কিংবা ৪ বছর মেয়াদী কোনো শিক্ষা গ্রহন করবে। তখন তার শিক্ষাগত যোগ্যতা কে বলা হবে স্নাতক। অর্থ্যৎ এই শিক্ষাগত যোগ্যতা কে ডিগ্রি বা তার সমমান হিসেবে ধরা হয়। 

অপরদিকে যখন সেই শিক্ষার্থী স্নাতক শেষ করার পর আরো ২ বছর কোনো শিক্ষা গ্রহন করবে। তখন তার সেই শিক্ষাগত যোগ্যতা কে বলা হবে স্নাতকোত্তর। সাধারনত আমরা উক্ত শিক্ষাগত যোগ্যতা কে মাষ্টার্স বা তার সমমান বলে থাকি। 

স্নাতক ও স্নাতকোত্তর কি?

স্নাতক ও স্নাতকোত্তর কাকে বলে?

আমরা অনেকেই বুঝতে পারিনা যে, স্নাতক ও স্নাতকোত্তর কি। তো আপনিও যদি উক্ত বিষয়টি সম্পর্কে না জেনে থাকেন। তাহলে শুনুন….


মনে করুন, আপনি একজন শিক্ষার্থী এবং আপনি সবেমাত্র এসএসসি পরীক্ষায় পাস করছেন। তো এখন যদি আপনি নির্দিষ্ট কোনো কোর্স করেন যার মেয়াদ হবে ৩ থেকে ৪ বছর পর্যন্ত। তাহলে আপনার সেই শিক্ষাগত যোগ্যতাকে স্নাতক এর মর্যাদা প্রদান করা হবে। 


যেমন, আপনি যদি এসএসসি পাস করার পর ডিপ্লোমা কোর্স করেন। তবে আপনার ডিপ্লোমার সার্টিফিকেট কে স্নাতক হিসেবে ধরা হবে।


অপরদিকে আপনি যখন স্নাতক এর কোর্স শেষ করবেন। আর তারপর আপনি আরো ২ বছরের কোনো কোর্স শেষ করবেন। তখন আপনাকে যে সার্টিফিকেট প্রদান করা হবে। মূলত সেই সার্টিফিকেট কে বলা হবে স্নাতকোত্তর। 

See also  রোমানিয়া স্টুডেন্ট ভিসা খরচ ও যোগ্যতা


উদাহরন হিসেবে যখন আপনি ডিপ্লোমা শেষ করার পর বিএসসি করবেন। তখন সেই বিএসসি এর সার্টিফিকেট কে মাস্টার্স হিসেবে ধরা হবে।  আশা করি, স্নাতক ও স্নাতকোত্তর কি সে সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানতে পেরেছেন। 

স্নাতকোত্তর ডিগ্রি বলতে কি বোঝায়?

একজন শিক্ষার্থী যখন তার বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষাজীবন শেষ করে। তখন সেই শিক্ষার্থী যদি নির্দিষ্ট কোনো একটি বিষয়ে দক্ষতা বৃদ্ধি করতে চায়। 


আর সেই লক্ষ্যে উক্ত শিক্ষার্থী যখন আরো ০১ বছর কিংবা ০২ বছর এর কোনো কোর্স করে। তখন সেই শিক্ষাগত যোগ্যতা কে বলা হবে, স্নাতকোত্তর ডিগ্রি। যাকে আমরা অনেকেই মাস্টার্স ডিগ্রি বলে থাকি। 

মাষ্টার্স করতে কত বছর সময় লাগে?

একটা বিষয় আমাদের সকলেই জানতে হবে। সেটি হলো, মাষ্টার্স করতে কারো ১ বছর সময় লাগে। আবার অনেকের ক্ষেত্রে মাষ্টার্স করতে প্রায় ০২ বছর সময় এর প্রয়োজন হয়।


কারণ, যদি আপনি অনার্স কোর্স শেষ করার পর মাষ্টার্স করবেন। তখন আপনার মাত্র ০১ বছর এর প্রয়োজন হবে। আবার যদি আপনি ডিগ্রি শেষ করে মাষ্টার্স করেন। তাহলে আপনার মোট ০২ বছর এর সময় লাগবে। 

মাষ্টার্স করার সুবিধা কি কি? 

যদি আপনি একজন শিক্ষার্থী হয়ে স্নাতক শেষ করার পর মাষ্টার্স করেন। তাহলে আপনি বিভিন্ন দিক থেকে সুবিধা ভোগ করতে পারবেন। যেমন, 


  1. মাষ্টার্স করলে আপনি আপনার জ্ঞান প্রসারিত করতে পারবেন। 

  2. এই কোর্স করলে আপনার দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে। 

  3. উক্ত দক্ষতা ও জ্ঞানের ফলে আপনি কর্মজীবনে অনেক ভালো কিছু করতে পারবেন। 

  4. আপনি সামাজিক ভাবেও অনেক মূল্যায়ন পাবেন। 

  5. অনেক উচ্চপদস্থ চাকরি করার সুবিধা পাবেন। 


মূলত যদি আপনি মাস্টার্স এর কোর্স সম্পূর্ণ করতে পারেন। তাহলে আপনি যে সকল ক্ষেত্রে সুবিধা ভোগ করতে পারবেন। সেই সুবিধা গুলো উপরে উল্লেখ করা হয়েছে। 

See also  কম সিজিপিএ নিয়ে বিদেশে উচ্চশিক্ষা নেয়া যায়?

প্রিলি মাস্টার্স দিয়ে কি বিসিএস দেওয়া যাবে?

অনেকেই জানতে চান যে, প্রিলি মাস্টার্স দিয়ে কি বিসিএস দেওয়া যাবে কিনা। তো যারা আসলে এই বিষয়টি জানতে চান। তাদের বলবো যে, প্রিলি মাস্টার্স দিয়েও বিসিএস দেওয়া যাবে। কেননা, যদি আপনি ডিগ্রী শেষ করার পর পুনরায় ০১ বছর মাস্টার্স এর কোর্স করেন। তাহলে আপনি নিশ্চিন্তে বিসিএস এর জন্য আবেদন করতে পারবেন। 

বিবিএস এর অর্থ কি? 

উত্তরঃ বিবিএস এর অর্থ হলো, ব্যাচেলর অব বিজনেস এডমিনিস্ট্রেশন। 

অনার্স কত বছর করতে হয়?

উত্তরঃ অনার্সে ভর্তি হলে আপনাকে মোট ০৪ বছর এর কোর্স করতে হবে। আর এই ০৪ বছরের কোর্সে আপনার মোট ক্রেডিট এর পরিমান হবে ৪৮০ ক্রেডিট। সেই হিসেবে আপনার প্রতি বছরে ১২০ ক্রেডিট করে সম্পন্ন হবে। 

মাস্টার্স ক্রেডিট কিভাবে কাজ করে?

উত্তরঃ মাস্টার্সের মধ্যে মোট ১৮০ ক্রেডিট রয়েছে। আর উক্ত ক্রেডিট গুলো বিভিন্ন বিষয়ের উপর ভিত্তি করে মূল্যায়ন করা হয়ে থাকে। যেমন, অ্যাসাইনমেন্ট, প্রকল্প, মডিউল ইত্যাদি। তো প্রতিটা গবেষনা পত্র এর জন্য ৬০ ক্রেডিট করে নির্ধারন করা হয়। 

এমবিএ আসলে কি? 

আসলে আমাদের মধ্যে যারা কমার্স নিয়ে গ্রাজুয়েট হতে চান। তাদের জন্য এমবিএ কোর্স রয়েছে। কেননা, এমবিএ এর ফুল মিনিং হলো, মাস্টার্স অফ বিজনেস অ্যাডমনিস্ট্রেশন। 

পরিশেষে আমাদের কিছুকথা

প্রিয় পাঠক, গুরুত্বপূর্ণ এই আর্টিকেলে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর কি সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। এছাড়াও আজকে আমি এমন কিছু তথ্য শেয়ার করেছি। যেগুলো আপনার জেনে নেওয়াটা অত্যন্ত জরুরী। 


তো যদি আপনি শিক্ষা সম্পর্কিত এই ধরনের অজানা বিষয় গুলো সহজ ভাষায় জানতে চান। তাহলে আমাদের সাথে থাকবেন। ধন্যবাদ, ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন। 


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *